সাইফ হাসান: ইংল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র বিক্ষোভের উপর সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যাবে না। অফিস ফর স্টুডেন্টস (ওএফএস) নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে, যা ক্যাম্পাসে বৈধ মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে জোরালোভাবে সমর্থন করে। তবে ইহুদি ছাত্রদের ভয় দেখানো বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এই নির্দেশিকা আগস্টে কার্যকর হবে।
ওএফএস-এর নতুন নির্দেশিকা বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধুমাত্র অবৈধ বক্তৃতা বা হয়রানির ক্ষেত্রে শাস্তি দিতে পারবে। গত বছর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ নিয়ে ছাত্রদের বিক্ষোভে দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। নতুন নির্দেশিকা এ ধরনের পদক্ষেপকে নিরুৎসাহিত করে। এছাড়া, বৈধ মতপ্রকাশ সমর্থনকারী বিক্ষোভ সীমিত করা যাবে না।
অধ্যাপক ববি ডাফি, কিংস কলেজ লন্ডনের পলিসি ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বলেন, “এই নিয়মগুলো সম্পূর্ণ স্পষ্ট করা কঠিন। ক্যাম্পাসে মতপ্রকাশের সীমা ক্রমাগত পরীক্ষিত হচ্ছে। এটি সমাজের সাধারণ সংস্কৃতি যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত।” তিনি আরও বলেন, “এই প্রক্রিয়া বিভেদ সৃষ্টির জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।” তিনি জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব নীতি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অতিথি বক্তাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষকদের নির্দিষ্ট মত সমর্থনের জন্য চাপ দেওয়া যাবে না। তবে পরীক্ষার সময় চিৎকার বা অপ্রাসঙ্গিক রাজনৈতিক বক্তব্যের মতো ব্যাঘাত সৃষ্টিকারী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। ওএফএস-এর মতপ্রকাশ স্বাধীনতার পরিচালক আরিফ আহমেদ বলেন, “ইহুদি-বিদ্বেষী হয়রানি কোনো ক্যাম্পাসে সহ্য করা হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এটি মোকাবেলায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
এ বছরের শুরুতে সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়কে ৫৮৫,০০০ পাউন্ড জরিমানা করা হয়। কারণ, লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে বিতর্কিত মত প্রকাশ করা অধ্যাপক ক্যাথলিন স্টকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় তারা ব্যর্থ হয়। ওএফএস-এর জরিপে দেখা গেছে, ২১% শিক্ষক মনে করেন তারা শিক্ষাদানে “চ্যালেঞ্জিং” ধারণা নিয়ে আলোচনায় স্বাধীন নন।
ইউনিভার্সিটিস ইউকে-র একজন মুখপাত্র বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা ও প্রচার করবে। আমরা নতুন নির্দেশিকা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করব।” তবে বিশেষজ্ঞ জুলিয়ান স্লাডিন বলেন, “জটিল ও বিভাজনকারী বিষয়গুলোর দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনায় এই নির্দেশিকা পুরোপুরি স্পষ্টতা দেয়নি।” বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এখন নিজেদের নীতি তৈরি করে ঝুঁকি মোকাবেলা করতে হবে।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















