সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যে শিশুদের লক্ষ্য করে জাঙ্ক ফুড বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা ২০২৬ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। লেবার সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল ১ অক্টোবর থেকে টেলিভিশনে রাত ৯টার আগে এবং অনলাইনে এই বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা। কিন্তু খাদ্য শিল্পের লবিংয়ের কারণে এই আইন জানুয়ারি 0৫, ২০২৬ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য প্রচারকরা এই সিদ্ধান্তকে জনস্বাস্থ্যের জন্য “বড় ধাক্কা” বলে সমালোচনা করেছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যাশলি ডাল্টন বলেন, “আমরা একটি সংবিধিবদ্ধ উপকরণ (এসআই) তৈরি করছি যাতে শুধুমাত্র ব্র্যান্ড বিজ্ঞাপন এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকে।” এই সংশোধনী উচ্চ চর্বি, লবণ বা চিনিযুক্ত পণ্যের বিজ্ঞাপনকে লক্ষ্য করবে না। তিনি বলেন, এটি নিয়ন্ত্রকদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেবে এবং শিল্পকে প্রস্তুতির সময় দেবে। কিছু কোম্পানি স্বেচ্ছায় অক্টোবর থেকে নিষেধাজ্ঞা মানার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে, পরামর্শের জন্য সময় দেওয়ার কারণে আইনটি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কার্যকর হবে।
রয়্যাল সোসাইটি ফর পাবলিক হেলথের প্রধান নির্বাহী উইলিয়াম রবার্টস বলেন, “এই বিলম্ব জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধাক্কা। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই পদক্ষেপ জরুরি।” ইমপ্যাক্ট অন আরবান হেলথের নিকিতা সিনক্লেয়ার বলেন, “এই বিলম্ব খাদ্য কোম্পানিগুলোকে শিশুদের অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রভাবিত করার সুযোগ দেয়।” তিনি বলেন, সরকারের স্বাস্থ্যকর প্রজন্ম গড়ার প্রতিশ্রুতি এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে শিশুদের স্বাস্থ্যের অবনতি উদ্বেগজনক। পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের গড় উচ্চতা কমছে, স্থূলতা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের কেস ২০% বেড়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, আল্ট্রা-প্রসেসড ফুড (ইউপিএফ) বিজ্ঞাপন এই অবনতির একটি প্রধান কারণ। স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং আগে কনজারভেটিভ সরকারের এই নিষেধাজ্ঞা বিলম্বের সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “স্থূলতা এনএইচএস-এর জন্য বিলিয়ন পাউন্ড খরচ এবং শিশুদের স্বাস্থ্যের উপর ভয়ানক প্রভাব ফেলছে।”
সয়েল অ্যাসোসিয়েশনের খাদ্য নীতি প্রধান রব পার্সিভাল বলেন, “এটি দ্বিতীয়বার জাঙ্ক ফুড শিল্পের চাপে স্বাস্থ্য নীতি দুর্বল করা হলো।” তিনি সরকারকে আসন্ন খাদ্য কৌশলকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে স্থূলতা ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রভাব বাড়ছে। এখানে জাঙ্ক ফুড বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণের কোনো শক্তিশালী নীতি নেই। যুক্তরাজ্যের এই উদ্যোগ থেকে শিক্ষা নিয়ে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















