গনোরিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বের প্রথম টিকা ইংল্যান্ডে, বাংলাদেশেও আশা!

198

সাইফ হাসান: ইংল্যান্ডে গনোরিয়া প্রতিরোধে বিশ্বের প্রথম টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। ৪সিমেনবি নামের এই টিকা, যা মেনিনজোকক্কাল রোগের জন্য ব্যবহৃত হয়, গনোরিয়ার ঝুঁকি ৩২.৭% থেকে ৪২% কমাতে পারে। ২০২৩ সালে ইংল্যান্ডে ৮৫,০০০ গনোরিয়ার ঘটনা রেকর্ড হয়েছে, যা ১৯১৮ সালের পর সর্বোচ্চ। এই টিকা অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী গনোরিয়া মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইংল্যান্ডে ১ আগস্ট থেকে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে এই টিকা দেওয়া শুরু হবে। এনএইচএস ইংল্যান্ডের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পরিচালক ড. আমান্ডা ডয়েল বলেন, “এই টিকা যৌন স্বাস্থ্যের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি গনোরিয়ার বিস্তার রোধ এবং অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার হার কমাতে সাহায্য করবে।” টিকা গ্রহণের পাশাপাশি এমপক্স, এইচপিভি, এবং হেপাটাইটিস এ ও বি’র টিকাও দেওয়া হবে।

২০২৩ সালে ইংল্যান্ডে গনোরিয়ার কেস ৮৫,০০০ ছাড়িয়েছে, যা ঐতিহাসিকভাবে সর্বোচ্চ। ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি জানায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ১৭টি সেফট্রায়াক্সোন-প্রতিরোধী এবং ৯টি অতি-প্রতিরোধী (এক্সডিআর) গনোরিয়ার কেস পাওয়া গেছে। ড. সেমা মান্ডাল, ইউকেএইচএসএ’র উপ-পরিচালক, বলেন, “এই টিকা কার্যক্রম বিশ্বে প্রথম এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেবে।”

টেরেন্স হিগিন্স ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড অ্যাঞ্জেল বলেন, “এই টিকা গনোরিয়ার নতুন কেস ৪০% পর্যন্ত কমাতে পারে।” তিনি এটিকে যৌন স্বাস্থ্যের জন্য একটি ‘গেমচেঞ্জার’ হিসেবে অভিহিত করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যাশলি ডাল্টন বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের এই টিকা গ্রহণ করা উচিত। এটি রোগের সংক্রমণ কমাবে এবং অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সমস্যা মোকাবিলায় সহায়তা করবে।”

গনোরিয়ার লক্ষণগুলোর মধ্যে সবুজ বা হলুদ স্রাব, প্রস্রাবে ব্যথা, এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে পেটের নিচের দিকে ব্যথা বা ঋতুস্রাবের মাঝে রক্তপাত অন্তর্ভুক্ত। তবে অনেকের কোনো লক্ষণ থাকে না। এই টিকা সম্পূর্ণ সুরক্ষা না দিলেও সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, যেখানে যৌন সংক্রামক রোগ নিয়ে সচেতনতা এখনও কম, এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে গৃহীত হলে জনস্বাস্থ্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian