সাইফ হাসান: অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র পরিচালক ও লেখক রবার্ট বেন্টন ৯২ বছর বয়সে মারা গেছেন। তিনি ‘ক্রেমার বনাম ক্রেমার’ চলচ্চিত্রের জন্য দুটি অস্কার জিতেছিলেন। তার দীর্ঘকালের সহকারী নিউ ইয়র্কে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বেন্টন ‘বনি অ্যান্ড ক্লাইড’ ও ‘প্লেসেস ইন দ্য হার্ট’-এর মতো কালজয়ী চলচ্চিত্রের জন্যও পরিচিত।
রবার্ট বেন্টন ১৯৬৭ সালে ডেভিড নিউম্যানের সঙ্গে ‘বনি অ্যান্ড ক্লাইড’ চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লিখে প্রথম সাফল্য পান। এই চলচ্চিত্রটি দুটি অস্কার জিতেছিল এবং আরও আটটি বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিল। বেন্টন বলেছিলেন, “আমি এসকয়ার ম্যাগাজিনে আর্ট ডিরেক্টর ছিলাম, চাকরি হারানোর পর চিত্রনাট্য লেখার সিদ্ধান্ত নিই। আমি বানান ও বিরামচিহ্নে দুর্বল, তাই নিউম্যানের সঙ্গে কাজ শুরু করি।” চার বছর ধরে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ওয়ারেন বিটির আগ্রহে এটি ২.৫ মিলিয়ন ডলারের বাজেটে ৭০ মিলিয়ন ডলার আয় করে।
১৯৭৯ সালে বেন্টন ‘ক্রেমার বনাম ক্রেমার’ লিখে ও পরিচালনা করে সেরা পরিচালক এবং সেরা চিত্রনাট্যের জন্য অস্কার জেতেন। তিনি ২০০৯ সালে বলেছিলেন, “আজ এই চলচ্চিত্র নির্মাণ কঠিন হতো। সত্তরের দশকে স্টুডিওগুলো উদ্যোক্তাদের হাতে ছিল, এখন কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণে।” তিনি ‘প্লেসেস ইন দ্য হার্ট’ (১৯৮৪) চিত্রনাট্যের জন্য তৃতীয় অস্কার জিতেন এবং সেরা পরিচালক হিসেবে মনোনয়ন পান। এই চলচ্চিত্রে স্যালি ফিল্ড অভিনয় করেছিলেন।
বেন্টনের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘স্টিল অফ দ্য নাইট’ (১৯৮২), ‘নোবডিস ফুল’ (১৯৯৪), এবং ‘টোয়াইলাইট’ (১৯৯৮)। তিনি ‘দ্য হিউম্যান স্টেইন’ (২০০৩) এবং ‘দ্য আইস হার্ভেস্ট’ (২০০৫) চিত্রনাট্য লিখেছেন। তার শেষ কাজ ছিল ২০০৭ সালের ‘ফিস্ট অফ লাভ’, যেখানে মরগান ফ্রিম্যান এবং গ্রেগ কিনিয়ার অভিনয় করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আমি এমন কিছু খুঁজি যা আগের কাজ থেকে আলাদা। আমি এমন চরিত্র পছন্দ করি, যাদের সঙ্গে দুই বছর কাটাতে আনন্দ পাই।”
পরিচালক হুইট স্টিলম্যান তাকে “মহানদের একজন” বলে সম্মান জানিয়েছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, মৃত্যুর সময় বেন্টন তার স্মৃতিকথা লিখছিলেন। তার কাজ চলচ্চিত্র জগতে গভীর প্রভাব ফেলেছে, বিশেষ করে নাটকীয় ও মানবিক গল্প বলার ক্ষেত্রে।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















