সাইফ হাসান: মিশরের কারাগারে বন্দি ব্রিটিশ-মিশরীয় অ্যাক্টিভিস্ট আলা আব্দ এল-ফাত্তাহ এবং তার মা লায়লা সুয়েফের স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তাদের পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে চলা অনশনে দুজনেরই শারীরিক অবস্থা ভয়াবহভাবে খারাপ হচ্ছে। আলার মুক্তির দাবিতে তার মা আট মাস ধরে পূর্ণ বা আংশিক অনশন করছেন, যা তাকে ‘ধীরে ধীরে মৃত্যুর’ দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
আলা, যিনি কায়রোর কাছে ওয়াদি এল-নাতরুন মরুভূমির কারাগারে বন্দি, গত ৫ëদিনেরও বেশি সময় ধরে শুধু হার্বাল চা, ব্ল্যাক কফি এবং রিহাইড্রেশন লবণ গ্রহণ করছেন। এ সপ্তাহের শুরুতে বমি এবং তীব্র পেটে ব্যথার কারণে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার মা লায়লা বলেন, “আলা যখন জানতে পারে আমি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি, তখনই সে অনশন শুরু করে। এখন সে অসুস্থ, কারাগারে একা, আর আমরা এক সপ্তাহ পরে তার অসুস্থতার খবর পাই। আমরা আর কী করতে পারি?”
লায়লা গত সেপ্টেম্বরে অনশন শুরু করেন, যখন আলার পাঁচ বছরের সাজার মেয়াদ পূর্ণ হয়। তবে মিশরীয় কর্তৃপক্ষ দাবি করে, তার সাজা ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে শেষ হবে, কারণ তর প্রাক-বিচার আটকের সময়টি সাজায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে লায়লা লন্ডনের সেন্ট থমাস হাসপাতালে ভর্তি হন এবং গ্লুকোজ ড্রিপের মাধ্যমে তার জীবন রক্ষার চেষ্টা করা হয়।
লায়লা বলেন, “ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার যথেষ্ট কিছু করছেন না।” তিনি আলার মুক্তির জন্য স্টারমারের কাছে সরাসরি মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাতাহ আল-সিসির সঙ্গে কথা বলার দাবি জানান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি স্টারমার সিসির সঙ্গে ফোনে আলার মুক্তির বিষয়ে আলোচনা করেন, যার পর লায়লা দৈনিক ৩০০ ক্যালোরি গ্রহণ শুরু করেন। কিন্তু দুই মাসठেরিয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।
লায়লার ভাইপো ওমর রবার্ট হ্যামিল্টন বলেন, “দিনে ৩০০ ক্যালোরি জীবন ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট নয়। তার পেশি ক্ষয়ে যাচ্ছে। এ যেন ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া।” ৬৮ বছর বয়সী এই অ্যাক্টিভিস্ট এবং গণিতের অধ্যাপক এখন দাঁড়াতেও অক্ষম।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আলার মুক্তি তাদের জন্য শীর্ষ অগ্রাধিকার। তারা মিশরীয় কর্তৃপক্ষের কাছে কনস্যুলার প্রবেশাধিকারের দাবি জানিয়ে যাচ্ছে।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian














