সাইফ হাসান: ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের ঝড় উঠেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক তার বিদায়ী সম্মান তালিকায় প্রবীণ কনজারভেটিভ নেতা মাইকেল গোভকে লর্ডশিপ প্রদান করেছেন। এই সিদ্ধান্তে বিরোধী দলগুলো তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, এটি কেবল রাজনৈতিক বন্ধুদের পুরস্কৃত করার একটি প্রচেষ্টা।
শুক্রবার দুপুরে ঘোষিত এই তালিকায় গোভ ছাড়াও সুনাকের আরও ছয়জন ঘনিষ্ঠ সহযোগী হাউস অফ লর্ডসে আসন পেয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন সাবেক পরিবহন সচিবठার্ক হারপার এবং সাবেক চিফ হুইপ সাইমন হার্ট। সাইমন হার্ট এ বছর তার স্মৃতিকথা প্রকাশ করে ওয়েস্টমিনস্টারে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। এছাড়া, সাবেক স্কটল্যান্ড সচিব অ্যালিস্টার জ্যাক এবং সুনাকের নীতি ইউনিটের প্রধান এলেনর শক্রসও এই তালিকায় রয়েছেন।
বিরোধী দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটের উপনেত্রী ডেইজি কুপার এই পুরস্কারকে তীব্র ভাষায় নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, “এটি রাজনৈতিক ব্যর্থতার পুরস্কার। সুনাকের সরকার দেশের অর্থনীতিতে ব্যর্থতার ছাপ রেখেছিল, আর এখন তারা বন্ধুদের সম্মান দিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “এই পদক্ষেপদেখায় কনজারভেটিভরা এখনও জনগণের কাছ থেকে কতটা দূরে।”
এদিকে, সাবেক চ্যান্সেলর জেরেমি হান্ট এবং সাবেক পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র সচিব জেমস ক্লেভারলিকে নাইটহুড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইংল্যান্ডের ক্রিকেট কিংবদন্তি জিমি অ্যান্ডারসনও নাইটহুড পেয়েছেন। তিনি গত জুলাই মাসে ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন।
মাইকেল গোভ, যিনি ২০১৬ সালে কনজারভেটিভ নেতৃত্বের দৌড়ে অংশ নিয়েছিলেন, শিক্ষা, পরিবেশ এবং হাউজিং সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তিনি কখনোই শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাননি। ২০২২ সালের জুলাইয়ে সাবেক প্ধানমন্ত্রী বরিস জনসন তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করেছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল ২০১৬ সালে জনসনের নেতৃত্ব প্রচারণায় বাধা দেওয়ার প্রতিশোধ।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















