দুটি চাকুরী করেও লন্ডনে ব্যয় বহনে হিমসিম খাচ্ছে অনেকে

202

ওয়ানবাংলানিউজ: ওয়েনডি ভিডিও ডায়রিতে তুলে রাখেন তাঁর দৈনন্দিন জীবনের গল্প। পরিবারের জন্য তিনি খাবার জোগাড় করেন এক্সপায়ারি ডেইট নিকটবর্তী হয়ে যাওয়ার কারণে বিনা মূল্যে বিতরণ করা খাদ্য সামগ্রী সংগ্রহ করে। লন্ডনের গ্রিনিচ এলাকার বাসিন্দা ওয়েনডি প্রতিদিনের মতো আজও খাবার সংগ্রহ বেরিয়েছেন।

ওয়েনডি একটি অ্যাপ ব্যবহার করেন। এর মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন তাঁর ঘরের কাছাকাছি কোথায় এক্সপায়ারি ডেইট এর নিকটবর্তী হয়ে যাওয়া খাদ্য সামগ্রী বিনা মূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে।

ওয়েনডির স্বামী কাজ করেন তথ্য প্রযুক্তি খাতে। তাঁদের আর্থিক অবস্থা খারাপ ছিল না, কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে আয় এবং ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখা যাচ্ছেনা।

ফেলিক্স প্রজেক্টের উদ্যোগে পরিচালিত এক জরিপের ফলাফলে জানা গেছে, লন্ডনে কর্মজীবী পরিবারের ২৫ শতাংশ তাঁদের ছেলেমেয়েদের খাবার দিতে হিমসিম খাচ্ছে। জরিপে যেসব কর্মজীবী মানুষ অংশ নিয়েছেন, তাঁদের ২৫ শতাংশ জানিয়েছেন, গত এক বছরে তাঁরা তাঁদের সন্তানদের খাওয়াতে গিয়ে নিজে না খেয়ে থেকেছেন অনেকবার। ১৪ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা প্রথমবারের মতো খাদ্য সহায়তা সেবা গ্রহণ করেছেন। আর ১১ শতাংশ কর্মজীবী মানুষ জানিয়েছেন, সব ধরনের বিল পরিশোধ করার পর সপ্তাহে মাত্র ২০ পাউন্ড তাঁদের হাতে থাকে খাদ্য কেনার জন্য।

দুই ঘণ্টার বেশী সময় হেঁটে হেঁটে নানা জায়গা থেকে বিনা মূল্যে খাদ্য সংগ্রহ ঘরে ফেরার পথে ওয়েনডির সাথে কথা বলেন বিবিসির প্রতিবেদক।

ওয়েনডি স্বামীর ব্যাংকের ওয়াভারড্রাফট ব্যবহারে না গিয়ে বিনা মূল্যে খাবার সংগ্রহ করে নিজের মতো করে জীবনকে কিছুটা সহজ করে নিয়েছেন। কিন্তু লোকলজ্জা সহ নানা কারণে লন্ডনের অনেক কর্মজীবী পরিবার নীরবে-নিভৃতে কষ্ট সয়ে যাচ্ছে।