মো: রুহুল আমিন: ২৫ বছর আগে যখন থেকে রেকর্ড রাখা শুরু হয়, তখন থেকে এখন পর্যন্ত রেকর্ডে দেখা যায়, ইংল্যান্ডে টেম্পোরারি একমোডেশন, অস্থায়ী আবাসনে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা বর্তমানে সর্বোচ্চ। উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা যায়, গত মার্চ মাসের শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের প্রায় এক লাখ ৫ হাজার পরিবার টেম্পোরারি একমোডেশনে বসবাস করছিল। আর টেম্পোরারি একমোডেশনে বসবাসকারী শিশুর সংখ্যা ১ লাখ ৩১ হাজার। এই সংখ্যাও নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে। ৫ সপ্তাহ বয়সের শিশু জ্যাক জন্মগ্রহণ করেছে গৃহহীন পরিবারে। ফলে সেও জন্ম থেকেই গৃহহীন। হোটেলের একটিমাত্র কক্ষে হাঁটতে শিখেছে জ্যাকের বোন লিলি। এই পরিবার হোমলেস হয়েছে, কারণ তাদের বাড়িওয়ালা তাদেরকে বাড়ি খালি করতে বলেছে। ফলে তাঁরা এখন হোটেলের একটি কক্ষে গাদাগাদি করে বসবাস করছে। দুই বাচ্চাকে নিয়ে সমস্যায় আছেন মা। একজনের কান্নায় রাতে ঘুম ভেঙ্গে যায় আরেকজনের। তাই অনেক সময় রাতের বেলা একজনকে নিয়ে হোটেলের রিসেপশনে এসে বসে থাকেন মা।
প্লিমাউথ এলাকায় প্রায় ১৪ হাজার পরিবার বেড এন্ড ব্রেকফাস্ট হোটেলে বসবাস করছে। হোমলেস সমস্যার সমাধানে এ বছর ৭ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করবে প্লিমাউথ কাউন্সিল। হোমলেস খাতে ৫ বছর আগে এই কাউন্সিল যা ব্যয় করতো, এখন ব্যয় করছে তার ১০ গুন অর্থ।
হোমলেস পরিবারের জন্য কাউন্সিলের পক্ষে এফরডেবল রেন্টের খালি বাসা-বাড়ি খুঁজে বের করার কাজ করেন টিলি হোল। তিনি জানালেন, মূল্যস্ফীতির কারণে সব কিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় বাসা-বাড়ির ভাড়াও বেড়েছে। ফলে কাজকর্ম করে উপার্জন করেও অনেকে ঘর ভাড়া দিতে সক্ষম হন না। ফলে হোমলেস মানুষের সংখ্যা বেড়েছে।
সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, ইংল্যান্ডে হোমলেস সমস্যা মোকাবেলায় সরকার দুই বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু তিন বছরের জন্য হাউজিং বেনিফিটও ফ্রিজ করে রেখেছে সরকার। কিন্তু ঘরের ভাড়া বাড়ছে। গত মাসের এক গবেষণায় জানা গেছে, দেশে প্রতি ২০টি প্রপার্টির মধ্যে একটিমাত্র প্রপার্টির ভাড়া এফরডেবল, অর্থাৎ হাউজিং বেনিফিটের অর্থ দিয়েই ভাড়া কুলিয়ে ওঠা যায়।
এদিকে ভাড়া ঘরের সংখ্যাও কমে আসছে। কারণ অনেক বাড়িওয়ালা তাদের বাড়ি বিক্রি করে দিচ্ছেন।
ডরোথি ডোসন গত ১৬ বছর যাবত তার ঘর ভাড়া দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু এই ঘর এখন তিনি বিক্রি করে দিচ্ছেন। কারণ সরকার একটি নতুন আইন করতে যাচ্ছে, যেখানে বলা হয়েছে নো-ফলট এভিকশন অবৈধ হবে। অর্থাৎ, ভাড়া ঘর থেকে ভাড়াটিয়াকে সহজে বেড় করতে পারবেন না বাড়িওয়ালা। এছাড়া বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ সহ আনুষঙ্গিক খরচও বেড়ে গেছে।
একদিকে ভাড়া ঘরের সংখ্যা কমে গেছে, অন্যদিকে বাড়ি খুঁজছে এমন পরিবারের সংখ্যা বেড়েছে।
কেইডেনের এমন কোনো বসবাসের স্থান নেই, যেটিকে সে নিজের ঘর ভাবতে পারে। ১২ বছর বয়সের এই বালক এখানে আসার আগে ২ মাস বসবাস করেছে একটি হোটেলে। কারণ, তাদেরকে আগের বাড়ি খালি করতে বলেছে বাড়িওয়ালা।
হোমলেস হওয়ার কারণে কেইডেন তার বন্ধুদের সাথে একই সেকেন্ডারি স্কুলে যেতে পারছে না। কারণ এখন সে সেই স্কুল থেকে অনেক দূরে বসবাস করছে। দেশের ভেঙ্গে পড়া হাউজিং সিস্টেমের শিকার সে।















