ঢাকা সংবাদদাতা: ছাত্রলীগকে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ছাত্রলীগের সম্মেলন হওয়ার কথা দুই বছর পর। যদি সময়মতো সম্মেলন হতো, তাহলে আজকে নেতৃত্বের যে ট্রাফিক জ্যাম এটা হতো না। আরো একসেট লিডারশিপ বেরিয়ে আসত।
এ লক্ষ্যে আগামী দিনে যারা ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসবেন তাদেরকে পরবর্তীতে যথাযথ সময়মতো সম্মেলন যনে হয় সেদিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান সেতুমন্ত্রী।
ঢাকা জেলা ছাত্রলীগ উত্তর ও দক্ষিণ শাখা হিসেবে এখন থেকে সাংগঠনিক জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পাবে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ছাত্রলীগ নতুন একটা সাংগঠনিক জেলা করতে যাচ্ছে। ঢাকা জেলা ছাত্রলীগ আসলে অনেক বড়। ওদিকে ধামরাই, এদিকে দোহার। অনেক লম্বা দুরত্ব। এর মধ্যে গোটা বিষয়টাকে ম্যানেজ করা দুই/একজন লিডারের পক্ষে কঠিন হয়। সেজন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সিদ্ধান্ত, ঢাকা জেলা ছাত্রলীগ উত্তর এবং ঢাকা জেলা দক্ষিণ-এই দুইটি সাংগঠনিক জেলা হবে।
দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রস্তাবিত দুই জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীদের প্রস্তাব সমর্থনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে চলে যাবে। এরপর সংশ্লিষ্ট জেলার আওয়ামী লীগ নেতা, মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট জেলার ছাত্রলীগের প্রাক্তন নেতাদের সাথে আলোচনা করবে। আগামী ১৮ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক কমিটির সমাবেশের পর কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করবে বলেন ওবায়দুল কাদের।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হওয়ার পরও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার ক্ষেত্রে এক বছর বিলম্বিত হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, এটা যেন না হয়। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দুই জেলার কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। কমিটি গঠন যত বিলম্বিত হবে. ততই যারা প্রার্থী, তারা নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরবে। ছাত্রলীগে যারা যোগ্য তারাই সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হবে। ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর সংগঠন, ছাত্রলীগ শেখ হাসিনার সংগঠন। ছাত্রলীগকে নিয়ে ভাগাভাগি চলবে না। যোগ্যতা এবং মেধাই হবে নেতৃত্ব নির্বাচনের যোগ্যতা। তবে সংশ্লিষ্ট জেলার নেতাদের সাথে পরামর্শ ও আলোচনা করে, আগামী জাতীয় নির্বাচনের স্বার্থে কমিটি দিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ছাত্রলীগ কোনো ভিন্ন গ্রহের নয়। ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন-তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনে তরুণরাই হবে আওয়ামী লীগের বিজয়ের প্রধান হাতিয়ার। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তরুণদের একযোগে কাজ করতে হবে। যারা সত্যিকার অর্থে যোগ্য, তাদের দিয়ে যেন নতুন কমিটি গঠিত হয়-এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের সহযোগিতাও কামনা করেন কাদের।
‘ছাত্রলীগ মাঝে মাঝে খারাপ খবরের শিরোনাম হয়। আমাদের এটা খুব কষ্ট হয়। আমরা লজ্জা পাই’-দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ছাত্রলীগে যারা বদনামের ভাগীদার, এরা গুটিকয়েক, এরা অনুপ্রবেশকারী। এই অনুপ্রবেশকারীদের জন্য গোটা ছাত্রলীগের বদনাম হতে পারে না। গুটি কয়েকের অপকর্মের দায় আওয়ামী লীগ সরকার নিতে পারে না।’
এ সময় সম্প্রতি শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে আরিফ হাওলাদারসহ বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রলীগ নেতাদের অপকর্মের তীব্র সমালোচনা করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আরিফ হাওলাদারের কাহিনি তোমরা জানো। তার মতো কর্মীর কোনো দরকার নেই। পাথরঘাটার রনি একই অপরাধে অপরাধী। এই রনিদের ছাত্রলীগে কোনো প্রয়োজন নেই।
আগামী দিনে নেতা-কর্মীদের খুব সতর্কভাবে চলার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এক বছরও নেই। নির্বাচনে আমাদের যেতে হবে। কেউ যদি কোথাও কোনো খারাপ কাজ করো, কারো সঙ্গে খারাপ আচরণ করো। তাহলে এখন থেকে সংশোধন হয়ে যাও। কেউ মনে কষ্ট পেলে তার কাছে গিয়ে ক্ষমা চাও। সংশোধন হতে হবে। জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে কোনো লজ্জা নেই।’
ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইকরামুল নবী ইমুর সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন প্রমুখ। সম্মেলন পরিচালনা করেন ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন রাজিব।















