রানীর মৃত্যুশোকের মধ্যে দুই ভাইয়ের মিলনে স্বস্তি পাচ্ছে ব্রিটিশরা

134

নিউজ ডেস্ক: প্রিন্সেস ডায়ানার রেখে যাওয়া সেই ছোট্ট দুই ছেলে প্রিন্স উইলিয়াম আর প্রিন্স হ্যারি এখন পরিণত যুবক। মাকে হারানোর পর কেটে গেছে অনেক বছর। এর মাঝে তাদের মধ্যে, বিশেষ করে পরিবারের সঙ্গে কার্যত সম্পর্ক ছেদ ঘটান প্রিন্স হ্যারি। তিনি মেগান মার্কেলকে বিয়ে করে কিছুদিন অবস্থান করেন রাজপ্রাসাদে। সেখানে তাদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগে এই দম্পতি পাড়ি জমান বিদেশে। কখনো কানাডা। কখনো যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন। যে দুই ভাই গলায় গলায় ভাব ছিল, তারা দু’জনে চলে যান বিপরীত মেরুতে। কারও সঙ্গে কারও দেখা হয় না। এমনটা কি হবার কথা ছিল! সেটা টের পেয়েই হয়তো রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ মৃত্যুর মধ্যদিয়ে তাদেরকে আবার কাছাকাছি নিয়ে এসেছেন।

আবার প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেলকে একসঙ্গে দেখা গেছে রাজপ্রাসাদে। দুই ভাই এবং তাদের দুই স্ত্রী মিলে রাজপ্রাসাদের বাইরে এসেছেন শোকার্ত মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে। রানীর মৃত্যুর পর উইন্ডসরে, সব রাজপ্রাসাদের বাইরে শোক আর আশীর্বাদ বহন করছে দেশবাসীর ভালোবাসা আর ফুল। দুই ভাই এবং তাদের স্ত্রীরা মিলে মোট চারজন যখন রাজপ্রাসাদের বাইরে বেরিয়ে আসেন, তখনো সেখানে হাজারো মানুষ অপেক্ষায়। তাদের একজন আমান্ডা গোল্ডস্মিথ। তিনিও অন্যদের মতো ফুল দিতে গিয়েছেন উইন্ডসরে। এই সুযোগে নতুন প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্সেস অব ওয়েলসের সাক্ষাৎ পেয়েছেন তিনি। বলেছেন, উইলিয়াম আর ক্যাথেরিনের (কেট) সঙ্গে করমর্দন করেছি। কেট অসম্ভব সুন্দরী আর লাভলি। যেন তিনি আমার সঙ্গে কথা বললেন যুগের পর যুগ। আমি তাদেরকে বললাম- রানীকে হারিয়ে যে ক্ষতি হয়েছে তাদের সেজন্য আমি দুঃখিত। জবাবে তিনি বললেন, রানীকে ছাড়া রাজপ্রাসাদ সেই আগের মতো নেই।
আমান্ডা গোল্ডস্মিথ সারে’র ওয়েস্ট বাইফ্লিট থেকে গিয়েছেন রাজপ্রাসাদে। তার সঙ্গে ছিলেন তার স্বামী অ্যানড্রু মিশেল। আমান্ডা বলেন, প্রিন্স ওয়েলস প্রাসাদের বাইরে এসে জনগণের দেয়া ফুল আর শিশুদের রেখে যাওয়া কার্ডের ওপর মন্তব্য করেছেন। বলেছেন, এসবই চমৎকার মনের বহিঃপ্রকাশ।

গত বৃহস্পতিবার স্কটল্যান্ডের বালমোরালে চিকিৎসকরা রানীর অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এরপরই রাজপরিবারের অন্যদের সঙ্গে প্রিন্স উইলিয়াম, প্রিন্স হ্যারি সেখানে ছুটে যান। ওইদিন আরও পরে রানীর মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এরপর শনিবার প্রিন্স উইলিয়ামের পিতা রাজা তৃতীয় চার্লসের আনুষ্ঠানিক অভিষেক হয়। ঠিক সেদিনটিতেই উইন্ডসর প্রাসাদের বাইরে জনতার কাতারে বেরিয়ে আসেন দুই ভাই প্রিন্স উইলিয়াম ও হ্যারি। বৃহস্পতিবার থেকে সেখানে যে হাজারো মানুষ অপেক্ষমাণ তাদের সঙ্গে তারা সাক্ষাৎ করেন। সাধারণত রাজপরিবারের সদস্যরা যখন বেরিয়ে আসেন তখন কেমব্রিজ গেটের প্রবেশপথ এবং লং ওয়াকের চারদিকে নিরাপত্তা কঠোর করা হয়। কিন্তু এদিন প্রথমবার দেখা গেছে অনেক মানুষ। তারা সেখানে উল্লাস করছিল। শিশুদেরকে কাঁধে তুলে নিয়েছেন অভিভাবকরা। প্রিন্স উইলিয়াম, প্রিন্স হ্যারি যখন কেট এবং মেগান মার্কেলকে সঙ্গে নিয়ে তাদের দিকে হেঁটে যান, তখন উপস্থিত জনতার ক্যামেরা শূন্যে তুলে ধরে একের পর এক ক্লিক মারতে থাকে।

সর্বশেষ উইন্ডসর ক্যাসেলে ভাই প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে উইলিয়ামের সাক্ষাৎ হয়েছিল। সেটা ছিল গত বছর এপ্রিলে। তখন তাদের দাদা ডিউক অব এডিনবার্গের শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে তারা উপস্থিত হয়েছিলেন। এবার তারা ঠিকই এক হলেন, তবে তাদের হৃদয়ের মণি- সবচেয়ে বেশি আদর পেয়েছেন যে দাদীর কাছ থেকে, তারা এক হলেন সেই দাদীর প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশে। তারা উপস্থিত হওয়ার পরই চারদিকে জনতার মধ্যে এক নীরবতা বিরাজ করে। তারা যেন রানীকে হারানো এই দুই যুগলের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শোক জানাচ্ছিলেন। রানীর প্রতি যে শ্রদ্ধা নিবেদন করে লেখা রাখা হয়েছে ফুলের সঙ্গে তারা তা পড়লেন। আঙ্গুল উঁচিয়ে দেখালেন বিশেষ কিছু ম্যাসেজের দিকে। হাঁটু ভাঁজ করে বসে তা পড়েন প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটন। এ সময় পাশে দাঁড়িয়ে তা দেখছিলেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল। গাড়ি থেকে নেমে ডিউক এবং ডাচেস অব সাসেক্স হাতে হাত রেখে হাঁটেন। এক সময় মেগানকে তার পেছন থেকে হাত বাড়িয়ে ভালোবাসার প্রকাশ ঘটাতে দেখা যায়।

সেখান থেকে তারা অপেক্ষারত জনতার দিকে এগিয়ে যেতেই হাততালি শুরু হয়ে যায়। জনতার কাছ থেকে তারা বিপুল পরিমাণ ফুলের তোড়া উপহার নেন। পিনার থেকে যাওয়া প্রীতি ভিয়াস বলেন, একই সঙ্গে তিনি বেদনাহত। শোকার্ত। অন্যদিকে তিনি খুশি। কারণ, এই শোকের মাঝেও তিনি প্রিন্স এবং প্রিন্সেসদের দেখতে পেয়েছেন।