ইউক্রেন যুদ্ধের ‘মূল হোতা’ যুক্তরাষ্ট্র : চীন

145

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ি করলেন মস্কোতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ঝাং হানহুই। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রই এই যুদ্ধের ‘আসল প্ররোচনাকারী’, তারা রাশিয়াকে ধ্বংস করতে চায়। সামরিক জোট ন্যাটোর সম্প্রসারণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে কোণঠাসা করে ফেলেছে। তারা ইউক্রেনকে মস্কো থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছে। এ খবর দিয়েছে আল-জাজিরা।

খবরে জানানো হয়, রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা টাস-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ঝাং। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে বলেন, তারাই ইউক্রেনের বর্তমান সংকটের শুরু করেছে এবং তারাই এর প্রধান প্ররোচনাকারী। এরমধ্য দিয়ে তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। একইসঙ্গে ইউক্রেনে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়ে চলেছে। তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বজায় রাখা এবং নিষেধাজ্ঞার কবলে ফেলে রাশিয়াকে নিঃশেষ ও চূর্ণ করা।

ইউক্রেনে আক্রমণ করা নিয়ে রাশিয়া যে যুক্তি দেখায় চীনা রাষ্ট্রদূতও সেই একই যুক্তি দেখিয়েছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চীন-রাশিয়া সম্পর্ক ইতিহাসের সেরা সময়ে প্রবেশ করেছে।

বিজ্ঞাপন

দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিশ্বাস জন্ম নিয়েছে। আমাদের মধ্যে এখন যোগাযোগ এবং কৌশলগত গুরুত্ব বেড়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বেইজিং সফর করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। উভয় নেতা সেসময় তাদের অংশীদারিত্বে ‘কোনো সীমা’ না রাখার ব্যাপারে সম্মত হন। ওই সফরের পরেই ইউক্রেনে আক্রমণ করেন পুতিন।
সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের সমালোচনা করেন ঝাং। তিনি বলেন, তাইওয়ানেও ইউক্রেনের মতো একই কৌশল খাটানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এরমধ্য দিয়ে চীন ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে আবারও সেই স্নায়ু যুদ্ধের সময়কার মানসিকতা ফিরিয়ে আনতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। এটি প্রতিদ্বন্দ্বীতা এবং সংঘাত ছাড়া কিছু নিয়ে আসবে না। ওয়াশিংটনের তাইওয়ান নীতির সমালোচনা করে ঝাং আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সবচেয়ে মৌলিক নীতি হলো কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা।