ইংল্যান্ডে জিপি এপয়েনটমেনট ‘সোনার হরিণ’ (ভিডিও)

435

ওয়ানবাংলানিউজ: ইংল্যান্ডে জিপি সংকট প্রকট হচ্ছে। আগামী এক দশকে ইংল্যান্ডে যতগুলো পারিবারিক চিকিৎসক, অর্থাৎ জিপি’র পদ থাকবে, সেগুলোর চার ভাগের এক ভাগই শূন্য থাকতে পারে। হেলথ ফাউনডেশনের এক গবেষণার ফলাফলে এই তথ্য উঠে এসেছে। কেবল জিপি নয়, জিপিতে কর্মরত নার্সের সংখ্যাও আগামী এক দশকে ব্যাপকভাবে কমে আসতে পারে।

ইংল্যান্ডে এই মুহূর্তে প্রায় ২৭ হাজার সম্পূর্ণ প্রশিক্ষিত জিপি আছেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান হেলথ ফাউনডেশন বলছে, যদিও নতুন প্রশিক্ষিত ডাক্তার তৈরির পরিকল্পনা আছে, তারপরও ২০৩০ সালের শেষ নাগাদ জিপির সংখ্যা দাঁড়াবে ২৭ হাজার ১শ। কারণ এই সময়ের মধ্যে নতুন ডাক্তার নিয়োগের পাশাপাশি অনেকে অবসরে চলে যাবে। এ কারণে ২০৩০ সালের শেষ নাগাদ জনসংখ্যার তুলনায় জিপির সংখ্যা ১০ হাজার ৭শ কম থাকতে পারে।

ডরসেটের বাসিন্দা এনড্রু গত ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর মাথার চামড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুর অস্তিত্ব জানতে পারেন। কিন্তু এরপর থেকেই তিনি তাঁর স্থানীয় জিপির সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন না। একবার একটি অনলাইন কনসালটেশনের সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। আর আরেকটি এপয়েনটমেনট বাতিল হয়ে যায়, যদিও তাঁর চিকিৎসকই বলেছেন, তাঁর পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। এনড্রু বলছেন, তিনি নিজেই দেখতে পাচ্ছেন, জিপিতে লোকবল কম।

এনড্রু’র পেটেও জমাট বেঁধে থাকা একটা পিণ্ড রয়েছে। ওয়ান-ওয়ান-ওয়ান নাম্বারে ফোন করলে তাঁকে বলা হয়েছে জরুরি ভিত্তিতে জিপি’র সাথে এপয়েনটমেনট করতে। তিন সপ্তাহ ধরে চেষ্টা করেও তিনি এপয়েনটমেনট পাননি। গত শুক্রবার তিনি জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে একটি এপয়েনটমেনট পান।

সরকারের চলতি মেয়াদে ইংল্যান্ডে নতুন ছয় হাজার জিপি নিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা আছে। (নয়েজ) কিন্তু এই লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হবে বলে মনে করেন সরকারের মন্ত্রীরাই। সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, জিপিগুলোতে ডাক্তারের সংখ্যা বাড়ছে এবং আরও বেশী সংখ্যক এপয়েনটমেনট এর সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকার বিনিয়োগও করেছে।

হাল এলাকার এই জিপি সার্জারির মতো দেশের অনেক সার্জারি প্যারামেডিক এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী দিয়ে জিপিতে রোগীর চাপ কিছুটা কমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। এরপরেও ডাক্তাররা বলছেন, এভাবে রোগীদের চাপ সামলানো কঠিন হবে।

এদিকে ইংল্যান্ডে কেবল গড়পড়তায় ডাক্তারের সংখ্যা কম নয়। একেক এলাকার চিত্র একেক রকম। নাফিলড ট্রাস্ট জানিয়েছে, ইংল্যান্ডের এই ম্যাপে যে অংশের রং গাড় ও ঘন বেশী, সেখানে জিপির সংকট বেশী। একারণে কে কোথায় বসবাস করছে, জিপির এপয়েনটমেনট পাওয়ার সুযোগ তার ওপর অনেকটা নির্ভর করে। কেবল ইংল্যান্ড নয়, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডেও আগামী এক দশকে জিপির সংকট থাকবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।