সুঁই ফুটিয়ে ডায়াবেটিস টেস্টের দিন শেষ

262

ওয়ানবাংলানিউজ: চিকিৎসা বিজ্ঞানে আরও একটি যুগান্তকারী অগ্রগতি আশার আলো দেখাচ্ছে। টাইপ-ওয়ান ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ইংল্যান্ডের কয়েক শ মানুষের মধ্যে একটি আর্টিফিশিয়াল পেনক্রিয়াস, অর্থাৎ কৃত্রিম অগ্নাশয়ের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। আর্টিফিশিয়াল পেনক্রিয়াসটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডায়াবেটিস রোগীদের দেহে ইনসুলিনের মাত্রা স্বাভাবিক করে দিতে সক্ষম। এই পদ্ধতিতে ইতোমধ্যে সুফল পাচ্ছেন রোগীরা। উচ্চ এবং নিম্ন মাত্রার সুগার লেভেলের ঝুঁকিকে কমিয়ে আনতে কার্যকারীতে দেখাচ্ছে আর্টিফিশিয়াল পেনক্রিয়াসটি।

ল্যাঙ্কাশায়ারের বাসিন্দা ছয় বছর বয়স্ক শারলট। ব্রিটেনের চার লাখের মতো মানুষ টাইপ-ওয়ান ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। শারলট তাদের একজন। তাঁর দেহ ইনসুলিন উৎপাদন করতে পারেনা। এই ইন্সুলিনের কাজ হলো রক্তে সুগার বা চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা।

আর্টিফিশিয়াল পেনক্রিয়াসের কার্যকারিতার ওপর চলমান ট্রায়ালের আওতায় শারলটের বাহুতে একটি সেন্সর লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। এই সেন্সর সার্বক্ষণিকভাবে তাঁর রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা মনিটর করে থাকে। সেন্সরটি সংগৃহীত উপাত্ত পাঠিয়ে দেয় এই পাম্পে। এরপর এই পাম্প স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রয়োজনীয় মাত্রায় ইনসুলিন পাঠিয়ে দেয় তাঁর দেহে।

এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজের রক্তে সুগারের মাত্রা যেভাবে ভারসাম্যপূর্ণ রাখা যাচ্ছে, তা দেখে সাউথ লন্ডনের বাসিন্দা ইয়াসমিন রীতিমত বিস্মিত।

ব্লাড সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা না গেলে ডায়াবেটিস রোগীদের হার্ট, কিডনী, চোখ এবং স্নায়ুর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে। এ কারণেই এই ট্রায়ালের গুরুত্ব অপরিসীম। আর্টিফিশিয়াল পেনক্রিয়াস পরীক্ষার এই কাজটি শেষ পর্যন্ত সফল প্রমাণিত হলে ডায়বেটিস রোগীদের সুস্থভাবে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়বে।