সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যের চার্চ অব ইংল্যান্ডের অধীনস্থ একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক পুরোহিত ক্রিস ব্রেন নারী ভক্তদের ধ*র্ষণ ও যৌ*ন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আটের ও নয়ের দশকে শেফিল্ডের একটি ধর্মীয় সমাবেশে তিনি নিজের প্রভাব খাটিয়ে এসব অপ*রাধ চালান। লন্ডনের একটি ক্রাউন কোর্টে পুনঃবিচারের পর এই রায় ঘোষণা করা হয়। এই রায়ের মাধ্যমে তিনি মোট ১৩ জন নারীর বিরুদ্ধে সংঘটিত ২২টি যৌ*ন অপ*রাধে দোষী প্রমাণিত হলেন। বর্তমানে ৬৯ বছর বয়সী এই সাবেক ধর্মযাজককে কারাগারে রাখা হয়েছে এবং শিগগিরই তাঁর সাজা ঘোষণা করা হবে।
আদালতে প্রসিকিউটররা জানান, নাইন ও ক্লক সার্ভিস নামের ওই ধর্মীয় দলের ভেতরে ক্লাব ঘরানার উপাসনা চালু করে শত শত তরুণ-তরুণীকে আকৃষ্ট করেছিলেন ব্রেন। কিন্তু একপর্যায়ে এটি একটি অন্ধ গোষ্ঠীতে রূপ নেয়, যেখানে সদস্যদের পরিবার ও বন্ধুদের থেকে আলাদা করে পুরোহিতের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল করা হতো। কোনো নারী তাঁর নির্দেশ বা আচরণে আপত্তি জানালে তাকে একঘরে করে দেওয়া হতো।
তদন্ত ও শুনানিতে প্রকাশ পায়, ভক্তদের মধ্যে কয়েকজন নারীকে তাঁর পারিবারিক বাড়িতে চব্বিশ ঘণ্টা সেবা করার বিশেষ দলে রাখা হতো। সেখানে তাঁদের দিয়ে অনৈতিক সেবা ও আপত্তিকর কাজ করাতেন তিনি। ভুক্তভোগীদের একজন আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানান, আশির দশকের শুরুতে ব্রেনের স্ত্রী বাড়িতে না থাকার সুযোগে তাঁকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছিল।
সাউথ ইয়র্কশায়ার পুলিশ ও জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলিরা আদালতকে জানান, ক্রিস ব্রেন ছিলেন একজন অহংকারী ও চতুর শিকারী, যিনি নারীদের আবেগ ও মানসিক দুর্বলতাকে জিম্মি করে এই নিপীড়ন চালিয়েছিলেন। ১৯৯৫ সালে এসব অভিযোগ প্রথম সামনে আসার পর তিনি পুরোহিতের দায়িত্ব ছেড়ে দেন। ব্রেনের দাবি ছিল এই সম্পর্কগুলো পারস্পরিক সম্মতিতে হয়েছিল, তবে আদালত তা নাকচ করে দিয়েছেন।
বিচারক জানিয়েছেন, দীর্ঘ তিন থেকে চার দশক ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকা ভুক্তভোগী নারীরা আদালতের আগামী শুনানিতে তাঁদের ওপর নেমে আসা ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বিবরণ তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। দুই দিনব্যাপী চূড়ান্ত শুনানির পরই সাবেক এই যাজকের সাজার মেয়াদ নির্ধারণ করা হবে।
#যুক্তরাজ্য #আদালত #আন্তর্জাতিক #aknews #onebanglanews















