ওয়ানবাংলানিউজ: শরণার্থীদের ভিসা দেয়ার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ করছেন ব্রিটেনে অবস্থানরত আফগান শরণার্থীরা। ইউক্রেন যুদ্ধের কয়েক মাস আগে আফগানিস্তান থেকে এসেছেন অনেক শরণার্থী। কয়েক হাজার আফগান পরিবার এখনও ব্রিটেনের বিভিন্ন অঞ্চলের হোটেলে বসবাস করছে। এখন শুরু হয়েছে ইউক্রেনের শরণার্থীদের ব্রিটেনে আশ্রয় দেয়ার প্রক্রিয়া। কিন্তু এই মুহূর্তে কেবল ইউক্রেনীয়দের জন্য ‘ফ্যামিলি রিইউনিয়ন ভিসা’ দিচ্ছে ব্রিটেন। ফলে আফগানদের মধ্যে বঞ্চনার অনুভূতি কাজ করছে।
নটিংহামের ব্যবসায়ী ফাজিল আলামি আফগান বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক। কিন্তু তাঁর মা এবং ভাই এখনও আফগানিস্তানে আছেন। ‘আফগান সিটিজেনস রিসেটেলমেনট স্কিমের’ আওতায় তিনি মা ও ভাইকে রেফুজি ভিসার জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু এতো বেশী আবেদনের মধ্যে তাঁর এই আবেদন মঞ্জুর করা হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
ফাজিল আলামি চান তাঁর মা-ভাই ব্রিটেনে এলে নটিংহামে তাঁর বাড়িতেই অব্যবহৃত কক্ষে বসবাস করবেন। তাদেরকে সরকারের বেনিফিট দেয়ারও প্রয়োজন নেই। কারণ তিনি নিজেই তাদের আর্থিক ব্যয় বহন করতে সক্ষম। ব্রিটিশ-ইউক্রেনিয়ানরা এভাবেই তাদের পরিবারের সদস্যদের ব্রিটেনে নিয়ে আসছেন। কিন্তু আফগান শরণার্থীদের এই ভিসা দেয়া হচ্ছেনা।
এদিকে রহিম মোল্লা নামে আরেকজন আফগান নাগরিক সাত মাস আগে আসেন ব্রিটেনে। তিনি আফগানিস্তানের সাবেক সরকারের পক্ষে কাজ করতেন। ব্রিটেনে রেফুজি হিসেবে আসার পর থেকে তিনি নর্থহাম্পটনের একটি ছোট হোটেল কক্ষে বসবাস করছেন। এখন কাজও খুঁজছেন। কিন্তু কাজ পেতে হলে তাকে হোম অফিস থেকে বায়োমেট্রিক রেসিডেন্স পারমিট পেতে হবে, যেটির জন্য তিনি এখনও অপেক্ষা করছেন। হোম অফিস জানিয়েছে, এ ধরনের পারমিট পেতে ছয় মাসের বেশী লাগার কথা না। কিন্তু রহিম বলছেন, আফগান রেফুজিদের গুরুত্ব সম্ভবত ইউক্রেনের শরণার্থীদের নিচে পড়ে গেছে।
নরথাম্পটনে আশ্রয় নেয়া রহিম চান, আফগানিস্তানে বিপদের মুখে থাকা তাঁর পরিবারের সদ্যসদ্যেরও ব্রিটেনে নিয়ে আসতে।















