ব্রিটেনে গর্ভবতী নারীরা সাবধানঃ সিএমভি ভাইরাস

580

ওয়ানবাংলানিউজ: একটি ভাইরাস আছে, যার নাম সাইটো-মেগালো-ভাইরাস, সংক্ষেপে সিএমভি। জীবনের কোনো একটা পর্যায়ে হয়তো আমাদের অনেকেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আবার সুস্থ হয়ে উঠেছি, কিন্তু তারপরও আমরা এই ভাইরাসের নাম জানিনা।

কোনো সমস্যা ছাড়াই এই ভাইরাস আমাদের দেহে সারাজীবন থেকে যেতে পারে। অধিকাংশ আক্রান্ত ব্যাক্তির মধ্যে এর লক্ষণ দেখা যায়না। কোল্ডসোর এর জন্য দায়ী হারপিস ভাইরাসের সাথে সাইটো-মেগালো-ভাইরাসের সম্পর্ক আছে। কিন্তু গর্ভবতী নারীরা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে ধ্বংসাত্মক ভবিষ্যৎ ডেকে আনতে পারে। শিশুদের বধির হওয়া এবং বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি হওয়ার পেছনে এই ভাইরাসটি সবচেয়ে বেশী দায়ী।

তিন বছর বয়স্ক ওরলা তাঁর মা হানা হেডের সাথে সাফোকে সেইন্ট এডমুনডস এলাকার বেরিতে বসবাস করে। মায়ের আনন্দময় সময়ের সাথী হলেও ওরলাকে দিনরাত দেখে রাখতে হয় মায়ের। ওরলার জন্ম হয়েছিল সেরেব্রাল পলসিতে আক্রান্ত হয়ে। সে মায়ের গর্ভে থাকতেই হিউম্যান সাইটো-মেগালো-ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল।

প্রতি ১০০শিশুর মধ্যে ১টি শিশু জন্মের আগে সাইটো-মেগালো-ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জন্মগ্রহণ করে। নবজাতক শিশুদের বধির হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ এই ভাইরাস।

ক্যাম্ব্রিজের এডেনব্রুক্স হসপিটালে শ্রবণ-সমস্যা নিয়ে যত শিশু জন্মগ্রহণ করে থাকে, তারা এই ভাইরাসে আক্রান্ত কিনা, এই গবেষণাগারে পরীক্ষা করা হয়। এখানে এই রোগের চিকিৎসা আবিষ্কারের চেষ্টা চলছে।

এই ভাইরাসের কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি। যতটুকু চিকিৎসা আছে, তাও সীমিত। ফলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং সাবধান থাকাই একমাত্র ভরসা। যেমনঃ বাচ্চার মুখে দেয়া কোনো কিছু গর্ভবতী মহিলাদের নিজের মুখে দেয়া বন্ধ করতে হবে। বাচ্চার মুখ এবং নাক পরিষ্কার করা এবং নেপি পরিবর্তন করার পর হাত ধৌত করতে হবে গর্ভবতী মহিলাদের।

রবিবার, মা দিবসে ক্যাম্ব্রিজের এডেনব্রুক্স হসপিটালে সাইটো-মেগালো-ভাইরাস বিষয়ে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। রোগটি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা।