ওয়ানবাংলানিউজ: বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন, আইনের শাসন ও মানবাধিকার রক্ষার বাস্তবতা এবং প্রত্যাশা শীর্ষক কনফারেন্স আয়োজন করেছে লন্ডন ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইউনির্ভাসাল ফয়েস ফর জাস্টিস। গত ১৬ অক্টোবর সোমবার বৃটিশ পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ হাউস অফ লর্ডস এ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।
কনফারেন্সে বাংলাদেশের উপর ২০১৬ সালের মানবাধিকারের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ইউনিভার্সাল ভয়েস ফর জাস্টিস’র চেয়ারম্যান সাঈদ বাকি অনুষ্ঠানের পরিচালনা করেন। যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন হাউস অফ লর্ডসের মেম্বার লর্ড হোসাইন ও লর্ড শেখ ।
কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউ কে’র বাংলাদেশ কান্ট্রি কো অর্ডিনেটর জেরি এলান , কুইন ম্যারি ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডনের বাংলাদেশ এম্বাস্যাডোর ব্যারিস্টার নাজির আহমেদ , বাংলাদেশ সেন্টার ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান মাহিদুর রহমান, বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা মুখলেসুর রহমান চৌধুরী, ইউনিভার্সাল ভয়েস ফর জাস্টিস’র ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুব আলী খানশূর,পিএইচডি ফেলো আবু সালেহ মু.ইয়াহিয়া, জাস্টিস ফর বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ,
বক্তারা কনফারেন্সে বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিচার বর্হিভূত হত্যা, সরকার কর্তৃক বিচার বিভাগের উপর হস্তক্ষেপের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন।
জেরি এলান বলেন, বাংলাদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে দেশের দক্ষিনাঞ্চলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সরকারের এ ব্যাপারে দ্রুত সকল দল মত নির্বিশেষে যৌথভাবে পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানান। একই সাথে তিনি বলেন যদি এ সমস্যার উত্তরণ না করা যায় বাংলাদেশের অত্যন্ত সমৃদ্ধ অঞ্চল অচিরেই বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
ব্যারিস্টার নজির আহমেদ সাংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে কি কি ক্ষেত্রে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘণ হচ্ছে তা তুলে ধরেন। প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে সরকারের নজির বিহীন নাটকের চিত্রও তুলে ধরেন তিনি।
মুখলেসুর রহমান চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ যদিও ওয়েস্টমিনিস্টার পার্লামন্টেকে অনুসরণ করে বলে বলা হয় কিন্তু তা শুধু মাত্র কাগজে কলমে , বাস্তবে নয়। আগামী নির্বাচনে অবশ্যই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন গত ২০১৪ সালের নির্বাচনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনুপস্থিতির কারনে এক তরফ নির্বাচন করতে সমর্থ হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকার।
মাহিদুর রহমান, প্রায় ১০ বছর ধরে বাংলাদেশে গনতন্ত্র নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন আওয়ামীলীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে গনতন্ত্রের নামে স্বৈরশাসন কায়েম করেছে।
মাহবুব আলী খানশূর বলেন , বাংলাদেশে অনির্বাচিত সরকার কর্তৃক গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় দেশে গণতন্ত্র নেই। অবৈধ সরকার জোর করে অনেকগুলো পত্রিকা, টিভি অফিস ও অনলাইন সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছে।
আবু সালেহ মোহাম্মদ ইয়াহহিয়া বাংলাদেশের বিচার বর্হিভূত হত্যা এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের খুন গুমের ঘটনা তুলে ধরেন সকলের সামনে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গুমের স্বীকার ইয়াহহিয়া নিজের উপর চালানো অত্যাচার ও নির্যাতনের চিত্রও তিনি সকলের কাছে বর্ণনা করেন।
কনফারেন্সে বৃটেনে বাংলাদেশী কমিউনিটির বিভিন্ন পেশাজীবী ব্যক্তিবর্গের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন ফরিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ শাকিল উদ্দিন,শহিদুল ইসলাম, মেহেরুন নেসা ,আবুল কাশেম, এস এম মাহাবুব, বেলাল মোল্লা, মোঃ হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন , মনির হোসাইন, আলী শাহাজাদা, এ জে এম তোফায়েল চৌধুরী, মু. রোকতা হাসান, মু. গোলাম হাফিজ, মু.ওসমান গনি, শহিদুল ইসলাম খান, মোহাম্মদ শাহজাহান, হাসনাত চৌধুরী, লায়েক আহমদ, মনির হোসেন, মাহমুদ আহমদসহ অনেকে।















