ব্রিটেনে কভিড: মর্মান্তিক মৃত্যু যেভাবে শুরু: কেড়ে নিল দেড় লাখ মানুষের প্রাণ

470

ওয়ানবাংলানিউজ: দেড় লাখ মানুষকে একসাথে কল্পনা করলে আপনার কাছে কেমন লাগবে? অক্সফোর্ডের মোট জনসংখ্যাই দেড় লাখের মতো। অন্য অনেক শহর-নগরের মতো এই অক্সফোর্ডেও অনেক বেদনার গল্প রচনা করেছে কোভিড মহামারী। ব্রিটেনে কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার ২৮দিনের মধ্যে প্রথম ব্যাক্তির মৃত্যু হয় ২০২০ সালের ৬ মার্চ। এর ৫ সপ্তাহ পর ১০ হাজারের বেশী মানুষের মৃত্যু হয়ে যায় কোভিডে। অক্সফোর্ডের প্রথম মুসলিম কাউন্সিলার সাবির হোসেন মির্জা। ১০ সন্তানের জনক এই ব্যক্তি স্থানীয়ভাবে একজন পরিবারকেন্দ্রিক মানুষ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। সাবির হোসেন যখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, তখন তাঁর পরিবারের সদস্যরা কেবল ভিডিও কলে তাঁর সাথে যোগাযোগ করতে পারছিলেন। কিন্তু হঠাৎ একদিন মিস্টার সাবির ফোন রিসিভ করা বন্ধ করে দিলেন। তাঁকে তখন ভ্যানটিলেটরে রাখা হয়। প্রায় তিন সপ্তাহ পর চিকিৎসকেরা শেষ বারের মতো দেখার জন্য হাসপাতালে পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে যাওয়ার অনুমতি দেন।

সাবির হোসেন মির্জাকে তাঁর ছোট ভাইয়ের কবরের পাশেই সমাহিত করা হয়। তাঁর ছোট ভাই ঠিক আগের দিন একই হাসপাতালে একই রোগে মৃত্যুবরণ করেন।

সারা দেশে মহামারি আকারে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। কিন্তু করোনার সংক্রমণের গতির সাথে পাল্লা দিয়ে এই অক্সফোর্ড শহরেই বিজ্ঞানীরা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের কাজ শুরু করেন। ২২ এপ্রিল নাগাদ অক্সফোর্ড এসট্রাজেনেকার টিকা স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে প্রয়োগ এবং ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে চলে যায়। আর বছরের শেষ দিকে এসে মানুষের মনে একটা আশার সঞ্চার হয়, যখন ব্রিটেনে অক্সফোর্ড এসট্রাজেনেকা এবং ফাইযার ভ্যাকসিনকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।

২০২১ সালের জানুয়ারি মাস মহামারির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। কারণ এই মাসেই অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশী মানুষের মৃত্যু হয়। ৩২ হাজারের বেশী মানুষ মারা যায় এই মাসে। তবে এই জানুয়ারি মাসের মধ্যেই ব্রিটেনের ৫ লাখের বেশী মানুষ ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ পেয়ে যায়।

ট্রেসি জোন্স লকডাউন চলাকালে ৫০ বছর পূর্ণ করেন। ৫১ বছরে পদার্পণ করা তাঁর সম্ভব হয়নি।

নীল এবং ট্রেসির স্পেশাল নীড এক ছেলে আছে। তাঁরা দুজনে মিলে ছেলে স্টীভেনের দেখাশোনা করতেন।

মহামারি অনেকগুলো দুঃখজনক মাইলফলক সৃষ্টি করেছে। ২০২০ সালের নভেম্বরে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ৫০ হাজারে। এর মাত্র ১১ সপ্তাহ পর মৃত্যুর সংখ্যা ১ লাখ ছুঁয়ে ফেলে।

ভ্যাকসিনের কারণে এরপর মৃত্যুর সংখ্যায় মন্থর গতি সৃষ্টি হয়। কারণ ১ লাখের পর বাকি পঞ্চাশ হাজার মৃত্যু হয় পুরো এক বছরে।

রবিন বারচমোর এর বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। করোনায় মৃত্যুর দুই দিন পর তাঁর কাছে ভ্যাকসিন গ্রহণের আমন্ত্রণ আসে। হাসপাতাল থেকে তিনি মেয়ের সাথে শেষবারের মতো কথা বলেন ভিডিও কলে।

ক্যামিলার নানীও মারা যান কোভিডে আক্রান্ত হয়ে। নানীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করে বাসায় এসেই তিনি হাসপাতাল থেকে বাবাকে বিদায় জানানোর টেলিফোন পান।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য যে কোনো দেশের আগে করোনায় দেড় লাখ মৃত্যুর রেকর্ড করল ব্রিটেন। তবে চলতি মহামারিতে এতো মৃত্যু আর দেখতে হবেনা- ব্রিটিশ জনগণের মধ্যে এখন এমন আশার সঞ্চার হয়েছে।