আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লিবিয়ার জাতীয় ঐক্যের সরকার (জিএনইউ) এর মুখপাত্র মোহাম্মদ হাম্মুদা জানিয়েছেন, ফ্রান্সের আমন্ত্রণে দখলদার রাষ্ট্র ইসরাইল অংশ নিলে লিবিয়া নিয়ে প্যারিস সম্মেলনে দেশটি অংশগ্রহণ করবে না। তিনি বলেছেন, “সরকার নিজ অবস্থানে এবং সমস্ত লিবিয়ার অবস্থানে অটল এবং ফিলিস্তিনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ”।
লিবিয়ার ইংরেজি গণমাধ্যম দ্য লিবিয়া অবজারভার এর এক প্রতিবেদনে ওই মুখপাত্রের বরাতে বলা হয়- ইসরাইল উক্ত অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে আমন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত হলে, (লিবিয়া) সরকার সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবে না।
একই প্রেক্ষাপটে, গেলো রোববার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানও জানিয়েছেন যে, তুরস্ক লিবিয়া সংক্রান্ত প্যারিস সম্মেলনে অংশ নেবে না যদি সেখানে গ্রীস, ইসরাইল এবং গ্রীক সাইপ্রাস প্রশাসন অংশ নেয়। রোমে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনের সঙ্গে এক বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বলে তুরস্কের সরকারপন্থী পত্রিকা ডেইলি সাবাহ এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়ঃ
প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রন বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলাপের এক পর্যায়ে জানান যে ফ্রান্স লিবিয়া নিয়ে আগের বার্লিন সম্মেলনের মতো একটি সম্মেলন করতে চায়।
এরদোগান ওই শীর্ষ সম্মেলন থেকে ফিরে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা তাকে (ম্যাক্রন) বলেছি, গ্রীস, ইসরাইল এবং গ্রীক সাইপ্রাস প্রশাসন অংশগ্রহণ করলে আমরা প্যারিস সম্মেলনে যোগ দিতে পারবো না। এই হলো আমাদের কথা।
যদি ওই দেশগুলো সম্মেলনে যোগ দিতে চায়, তাহলে বিশেষ প্রতিনিধি পাঠানোরও কোন দরকার নেই”।
উল্লেখ্য, নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্যারিস সম্মেলনের লক্ষ্য বছরের শেষের দিকে লিবিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে চূড়ান্ত আন্তর্জাতিক চাপ দেওয়া এবং বিদেশী বাহিনীর প্রস্থানকে সমর্থন করা। ১২ নভেম্বর প্যারিসে জাতিসংঘ, জার্মানি এবং ইতালি আয়োজিত শীর্ষ ওই সম্মেলনে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রপ্রধানরা জড়ো হবেন।
কিন্তু ইতালির বার্তা সংস্থা নোভা নিউজ এজেন্সি বলেছে- ইউরোপীয় কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, ফ্রান্স ইতালি এবং জার্মানির সাথে মিলে ওই সম্মেলন আয়োজন করার পরামর্শ দিলেও সম্মেলনের সময়সীমার কারণে উভয় দেশই তা প্রত্যাখ্যান করেছে। কারণ তারিখটি দেশটির দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নির্বাচনের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে হয়ে যায়। তাছাড়া সম্মেলনটিকে ‘লিবিয়া স্থিতিশীলতা উদ্যোগ’ এরই পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে যা জাতীয় ঐক্যের সরকার ২১ অক্টোবর অনুষ্ঠান করেছিল।
আপনার মতামত দিন















