কোভিড প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায় হতে পারে হোম অফিস: বলছেন বিজ্ঞানীরা

347

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দুনিয়া ক্রমেই অগ্রসর হচ্ছে হোম অফিস বা ঘরে বসে কাজ করার দিকে। কোভিড মহামারি সেই প্রবণতায় অনুঘটকের কাজ করেছে। প্রথম সারির বহু সংস্থাই কর্মীদের দীর্ঘকালীন ওয়ার্ক ফ্রম হোমের ব্যবস্থা করছে। এতে যাতায়াতের কষ্ট ও সময় বাঁচছে। কাজ শেষে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারছেন কর্মীরা। যাতায়াতের স্ট্রেস না থাকায় কাজও ভালো হচ্ছে। এবার যুক্তরাজ্যের একদল বিজ্ঞানীও হোম অফিসের পক্ষে জোরালো মতামত দিয়েছেন।

সরকারের প্রতি তাদের পরামর্শ, এই শীতে কোভিডের বিস্তার থামাতে লোকজনকে বাসা থেকে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে। করোনা মোকাবিলায় এটি হতে পারে সবচেয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ।

সায়েন্টিফিক অ্যাডভাইজরি গ্রুপ ফর ইমার্জেন্সি (এসএজিই) নামের বিজ্ঞানীদের একটি সংস্থা থেকে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি এই আহ্বান জানানো হয়েছে। এই সংস্থাটি জরুরি পরিস্থিতিতে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের সহায়তার জন্য বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ দিয়ে থাকে।

এসএজিই বলছে, কর্মক্ষেত্রে উপস্থিতি কিংবা কাজে যোগ দেওয়ার চাপ থেকে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই সরকারের দ্রুত প্রয়োগের মতো কঠোর করোনাবিধি প্রস্তুত রাখা উচিত।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যজুড়ে কোভিড হাসপাতালগুলোতে ভর্তি এবং করোনায় মৃতের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে। দেশটিতে গত ১০ দিন ধরে প্রতিদিন ৪০ হাজারেরও বেশি নতুন সংক্রমণ রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার নতুন করে আরও ৪৯ হাজার ২৯৮ জনের কোভিড শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১৮০ জনের।

আসন্ন শীতে নতুন করে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সরকারের আশঙ্কা, দৈনিক সংক্রমণ এক লাখে উন্নীত হতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় লকডাউনের বদলে সচেতনতা ও অধিক সংখ্যায় টিকাদানের ওপর জোর দিচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তবে বিজ্ঞানীদের পরামর্শ, শীতে সংক্রমণ মোকাবিলায় নাগরিকদের বাসায় অবস্থান করার নির্দেশনা দেওয়া উচিত সরকারের। এতে ভাইরাসের বিস্তার অনেকাংশেই কমে আসবে। আর এমন পরিস্থিতিতে বাসা থেকে কাজ করাই সর্বোত্তম উপায়।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন-ও বাসা থেকে কাজ করার বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। বিবিসি-কে তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। বিজ্ঞানীদের পরামর্শ অনুযায়ী, সামগ্রিক বিষয়াদি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। জনসাধারণের সুরক্ষার জন্য যা প্রয়োজন সরকার সেটিই করে থাকে।

জনসন সরকারের মন্ত্রীরা অবশ্য বিজ্ঞানীদের প্রস্তাবের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন। সুনির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে মুখ ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক করার করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

এদিকে কোভিডের ডেল্টা প্লাস ধরন নিয়ে ঝুঁকি বাড়ছে। সংক্রমণের দৌড়ে এরইমধ্যে এটি অতি সংক্রামক হিসেবে বিবেচিত ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টকে পেছনে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। যুক্তরাজ্যে বর্তমানে করোনা রোগীদের ছয় শতাংশই ডেল্টা প্লাসে আক্রান্ত। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, অদূর ভবিষ্যতে এটি আরও বাড়বে।