সিলেটে দফায় দফায় ভূমিকম্প কি আগাম বার্তা দিচ্ছে?

835

নিউজ ডেস্ক: সিলেটে শনিবার অন্তত পাঁচ থেকে ছয়বার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েক দফার এই কম্পনে বড় কোনো ভূমিকম্প হওয়ার বার্তা বহন করছে কিনা এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এমন কম্পনে আতঙ্ক হওয়ার চেয়ে প্রস্তুতি এবং সতর্ক থাকার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অনুষদের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন ভূঁঞা বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট জৈন্তা এলাকায় এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল। যেটিকে ‘ডাউকি ফল্ট’ বলা হয়। এটি পূর্ব পশ্চিমে প্রায় তিনশ কিলোমিটার বিস্তৃত। যা দেশের অভ্যন্তরে পলিমাটি দিয়ে ঢাকা আছে। আজ সেখানে বেশ কয়েকবার স্বল্প মাত্রার ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছে। এটি আসলে অস্বাভাবিক কিছু নয়। অদূর ভবিষ্যতে বড় কোনো ভূমিকম্পের প্রস্তুতি ও সতর্ক থাকতে হবে।’

‘ডাউকি ফল্টের’ সামগ্রিক বিষয় ব্যাখ্যা করে অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দুইশত বছর আগে ১৭৯৬ সালে এই অঞ্চলে বড় মাত্রার ভূ-কম্পন হয়েছিল। রিসার্স অনুযায়ী বড় মাত্রার ভূ-কম্পন থেকে আরেকটি বড় মাত্রার ভূ-কম্পন হতে ৫০০ থেকে ২০০০ হাজার বছর সময় নেয়। এ হিসেবে বাংলাদেশে বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে আরো ৩০০ বছর লাগার কথা। তবে প্রকৃতির খেয়ালে যেকোন সময় বড় ধরনের ভূ-কম্পন হতে পারে।’

দফায় দফায় স্বল্প মাত্রার ভূ-কম্পনে বড় কোনো ভূমিকম্প না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে প্রতিদিন অন্তত ৫০ বার ভূ-কম্পন হয়। কিন্তু কম মাত্রায় হওয়ায় সেটা আমরা বুঝতে পারি না। তবে রিখটার স্কেলে ৩ মাত্রার বেশি হলে সেটা আমরা বুঝতে পারি। আজকের সিলেটের ঘটনাটাও এমনই স্বাভাবিক।’

বার বার ভূ-কম্পনের ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘সাগরের ঢেউ বড় তবে সেটি আস্তে আস্তে আসে। এটি তৈরি হতেও সময় লাগে। আবার কোনো পুকুরে ছোট ঢেউ হয় তবে এটি খুব দ্রুত পাড়ে আঁচড়ে পরে। ঠিক তেমনি বড় কম্পন হলে সেটি সময় নিয়ে আসে। ছোট কম্পন খুব দ্রুতই তৈরি হয়। তাই দফায় দফায় স্বল্প মাত্রার কম্পন বড় কোনো ভূমিকম্পের বার্তা বহন করে না। তবে সিলেটের বিষয়টি নিয়ে গবেষণা হওয়া প্রয়োজন আছে।’

শনিবার সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে, ১০টা ৫১ মিনিটে, বেলা ১১টা ২৯ মিনিটে, ১১টা ৩৪ মিনিটে দুবার ও বেলা ২টায় এভাবে মোট ছয়বার কেঁপে ওঠে সিলেট। প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে চারবার কম্পনে অফিস-আদালতে থাকা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই কর্মস্থল থেকে বের হয়ে খোলা স্থান ও সড়কে চলে যায়। তবে কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বলছে, সিলেটের ভূমিকম্পের রিখটার স্কেলে সর্বোচ্চ মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১। এছাড়া রিখটার স্কেলে ৪, ৩ ও ২.৮ মাত্রার কম্পন রেকর্ড করা হয়। আর অন্যগুলোর মাত্রা এতো মৃদু ছিলো যে তা রেকর্ড করা সম্ভব হয়নি।