লন্ডনে ফান্ডরেইজিংয়ের জন্য রোজা রেখে দৈনিক ১শ‘বার গার্ডেনে হাটছেন শতবর্ষী দবির চৌধুরী

চ্যানেল এস আরএফসি-এর জন্য তার ফান্ডরেইজিং-এ বিশাল সাড়া

2128

ওয়ানবাংলানিউজ: ১শ বছর বয়স তার। হাটবেন ১শ বার। তিনি এক রোজাদান। হ্যা শতবর্ষেও তরুন বলা চলে এই কবি দবিরুল ইসলাম চৌধুরীকে। বৃটিশ বাংলাদেশী লম্বা গড়নের মায়াবি হাসির এই প্রবীন মানুষটি এখোনো উদ্যোমি। তার-ই প্রমান দিলেন এই রামাদানে ইস্ট লন্ডনে বাসার বিশাল এস্টেট গার্ডেটে ১শ বার হাটার কর্মসূচী ঘোষনা করে। চ্যানেল এস রামাদান ফ্যামেলি কমিটম্যান্ট (আরএফসি)-এর ২৬টি এপিলের জন্য রোজা রেখেই পুরো গার্ডেনের একপাশ থেকে অন্য পাশে হাটার যাত্রা শুরু করেন ২৬ এপ্রিল রোববার। মাত্র ১ হাজার পাউন্ডের টার্গেট নিয়ে তার সূচনা হলেও তিন দিনের মাথায় তিনি প্রায় সাড়ে ৪ হাজার পাউন্ড ফান্ডরেইজ করেছেন।

দবির চৌধুরী এখোনো প্রতিদিন হাটছেন। যদিও প্রায় দু মাস যাবত লকডাউন যাপিতজীবন তার । তিনি হ্রদয়বান দাতাদের বলছেন, আমি হাটতেই থাকবো, প্রয়োজনে ১শ বারেরও বেশী। এটা আমার স্বাস্থের জন্যও ভালো, আর বিনিময়ে সবাই যেভাবে ১০/২০/৫০ কিংবা ১শ পাউন্ড করে দান করে আমার ক্যাম্পেইনকে শক্তিশালী করছেন তা-ই আমাকে এই বয়সে দারুন আনন্দ দিচ্ছে।

কোনো অসুস্থতা-রোগ বালাই নেই তার। শক্ত শারিরিক গঠন । আর তাই চ্যারিটির মাধ্যমে করোনায় বিপর্যস্ত মানবতার পাশে দাড়াতে চান তিনি। ফান্ডরেইজিং-এ সবার দৃষ্টি কাড়তেই তার এই হাটাহাটি।

তিনি হাটতে হাটতেই এই প্রতিবেদককে বলেন, আমার প্রবল আশা অন্তত ১হাজার পরিবার যদি একটু নজর দেন, তাকে সমর্থন করেন-তাহলে তিনি ৫২ হাজার পাউন্ড রেইজ করতে পারবেন। যা চ্যানেল এস এর সাথে যুক্ত ২৬টি চ্যারিটি আপিল সমান ভাবে ভাগ করে নেবে। আরএফসি এর এম্বেসেডর হিসেবে তিনি এবং সবাই একই ক্যাম্পেইন করেন যে-সহজে একটি ডোনেশন করুন, আর দান যাবে ২৬টি এপিলে। যেমন, কেউ যদি ৫২ পাউন্ড দান করেন, তবে প্রতিটি এপিল পাবে ২ পাউন্ড করে।

চাকুরী, ব্যবসা ও সমাজসেবা সবকিছুতেই অগ্রসর ছিলেন দবির চৌধুরী। সব সময়ই সাহসি ও উদ্যোমি। ৬০-এর দশেকে নিজে গাড়ি চালিয়ে লন্ডন থেকে সিলেট যান, তরুন বসয়ে সিলেটের এমসি কলেজে ভর্তি হতে নিজ গ্রাম দিরাই থেকে আসেন ঘোড়ায় চড়ে। দেখেছেন চার প্রজন্ম-বৃটিশ ভারত, পাকিস্তান আমল, বাংলাদেশ এবং আবারো বৃটিশ। বল্লেন, জীবনে কত চ্যালেনজের মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু করোনার মতো অজানা বিপদ দেখেননি কখোনো।

তিনি আরো বলেন, আমি নিজে গাড়ি চালিয়ে অন্যান্য নেতাদের নিয়ে ৭১ সালে প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের ক্যাম্পেইনের জন্য এখানে ওখানে ছুটে বেড়িয়েছি। আজ করোনাভাইরাসের এই যুদ্ধে আবারো মাঠে আছি, পাশে চাই আপনাদের।

চ্যানেল এস এর ফাউন্ডর মাহি ফেরদৌস জলিল বলেন, দবির চৌধুরীর উদ্যোগ বড় মনের পরিচয়। তার সাহস আমাদেরকে অনুপ্রানিত করে। আর তাকে সম্মান জানানো, উতসাহ দেয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার।

আরএফসি’র সমন্বয়ক এবং চ্যানেল এস এর হেড অব প্রোগ্রামস ফারহান মাসুদ খান বলেন, আমরা সমাজের নানা পর্যায়ের সফল এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের আরএফসি এম্বেসেডর হিসেবে পেয়েছি, কিন্তু এক অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরী করেছেন আমাদের প্রবীন মুরব্বি দবির চৌধুরী। আরএফসি-এর জন্য তার ফান্ডরেইজিং ক্যাম্পেইন বিশেষ সফলতা পাবে এটি আমাদের প্রবল আশা।
উল্লেখ্য, অবসরপ্রান্ত বৃটিশ ক্যাপ্টেন ৯৯ বছর বয়সে এভাবে ১শ বার পায়ে হেটেছেন। এনএইচএস এর সম্মানে মাত্র ১ হাজার পাউন্ড টার্গেট নিয়ে তিনি বিশ্বে সাড়া ফেলেন, এই পর্যন্ত তার কালেকশন ২৮ মিলিয়ন পাউন্ড ছাড়িয়েগেছে।
দবিরুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে ব্যবসায়ি আতিক চৌধুরী তার বাবার পক্ষে জাস্টগিবিং ওয়েবসাইটে একটি একাউন্ট খুলেছেন। বলেন, তাতে সবাই দান করলে মূলত উপকৃত হবে আরএফসির ২৬টি আপিল।

নিচে জাস্টগিবিং পেজের লিংটি দেয়া হলো:
https://www.justgiving.com/fundraising/dabirul-islam-choudhury