আকবর হোসেন: আজকের দিনটি খুবই সুন্দর ছিল। ভাইরাসের আতংক না থাকলে অনেকেই আজ বাইরে বের হতেন। কিন্তু ভাইরাস আমাদের আটকে রেখেছে ঘরে। জানিনা আর কতদিন এভাবে ঘরে কাটাতে হবে। সােমবার থেকে শুক্রবার কাজে চলে যায়। ঘর থেকেই অফিসের কাজ। ছয়টার পর ভাইরাস নিয়ে আলাপ আলােচনা, চিন্তাভাবনা, ফােনে, ইন্টারনেটে যােগাযােগ, বাচ্চাদের সাথে সময় দেয়া, পড়াশুনা ইত্যাদি শুরু হয়।

এখন ইষ্টারের ছুটি চলছে। গতকালও সুন্দর দিন ছিল। বাজার সওদার জন্য বের হলাম। আর আজ দাঁতের সমস্যার কারণে বুটস্ থেকে টেম্পরারী ফিলার ও মেয়েদের হাতের কাজের জন্য উল ও কিছু দরকারী জিনিষ যেমন ডিম, চিনি ইত্যাদি কেনাকাটার উদ্দেশ্যে বের হওয়া। হেঁটেই গেলাম টুইকেনহাম হাইষ্ট্রীটে। আমাদের ফ্লাট থেকে খুবই কাছে পাঁচ মিনিটের রাস্তা। টুইকেনহাম রাগবি ষ্টেডিয়ামের কারণে সবার কাছে পরিচিত।

এছাড়া হিথরো এয়ারপোর্ট মাত্র পাঁচ মাইল দুরে অবস্থিত। তো কেনাকাটা কিছু করলাম ডিসটেন্স বজায় রেখেই। কিন্তু বুটসের কাজ হল না, অন্যান্য ফার্মেসীগুলোও বন্ধ পেলাম। ফাঁকে প্বার্শবর্তী টেমস নদীর তীরে এক চক্কর দিয়ে আসলাম। নদীর পানি একেবারেই শান্ত, নৌকােগুলাে তীরে ভিড়ানাে। ঘরে থাকার নির্দেশ থাকলেও স্প্রীং এর সুন্দর আবহাওয়ার কারণে বাজারের উসিলায় কিংবা হাঁটার উসিলায় কিছুলােককে নদী তীরে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির দৃশ্য উপভােগ করতে দেখলাম। যেখানে আসতে কােন বাঁধানিষেধ ছিল না আজ সেখানে হাতেগােনা ক’জন। জানিনা স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসতে আর কতদিন লাগবে। গতিহীন নদীর পানির মত সারা পৃথিবীই যেন আজ থমকে দাঁড়িয়েছে। এক অদৃশ্য শক্তি আমাদের হিদয়ে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে। আমরা এখন নিরুপায়।

কাজ শেষে আবারাে ঘরে ফিরে আসতে হল। তবে হে ফিভার সাথে নিয়ে আসলাম। এ সিজনে বিশেষ করে ওয়েদার ভাল হলে তাে আর কােন কথা নেই। এখন বেশ ভাল অনুভব করছি। আলহামদুলিল্লাহ। রাতে তারেক ভাইয়ের অনলাইন মিটিংয়ের দাওয়াত পেয়ে সবার সাথে যােগ দিলাম। তবে তার আগে এশার নামাজ ও হালকা ডিনার পর্ব শেষ করলাম। সিনিয়র জুনিয়র সাংবাদিক বন্ধুদের অংশগ্রহণে রাত এগারটা পর্যন্ত জমজমাট অনুষ্ঠান চললাে। এবার ঘুমােবার পালা। সবার জন্য শুভ কামনা। আল্লাহ হাফিজ

আকবর হােসেন
টুইকেনহাম
এগারাে এপ্রিল 2020















