কাঁচাবাজারগুলোতে কোন দুরত্বই মানা হচ্ছে না; বাড়ছে করোনা ঝুকি

386

ঢাকা সংবাদদাতা: করোনার পরিস্থিতিতে মারাত্বক ঝুঁকিতে আছে কাঁচাবাজারগুলো। ঢাকাসহ সারা দেশের কাঁচাবাজারগুলোতে সামাজিক দুরত্ব মানা হচ্ছে না একেবারেই। অবস্থা আঁচ করতে পেরে গ্রামের বাজারগুলোকে পাশ্ববর্তী খোলা মাঠে স্থানান্তরের কাজ চলছে। তবে ঢাকার কাঁচাবাজাওে এমন কোন উদ্যোগ এখনও দেখা যাচ্ছে না। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছোট বড় সব কাঁচাবাজারে মানুষের জটলা লেগে থাকে। বাজারের ছোট ছোট গলিতে শতশত মানুষ একে অন্যের গায়ের সঙ্গে ঘেঁষাঘেঁষি করে বাজার করছে। এক একটি দোকানের সামনে ১০/১২ জন ক্রেতা পণ্য কেনার জন্য এক সঙ্গে ভীড় করে। অন্যসব বন্ধ রেখে এই বাজার এভাবে নিয়মন্ত্রণহীন থাকলে সংক্রমণের বড় ঝুঁকি থেকেই যাবে।

সরজমিন ঢাকার খিলগাঁও, মালিবাগ, রামপুরা, বাড্ডা, শান্তিনগর, কাওরানবাজার, সেগুনবাগিচাসহ আরও কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে প্রায় প্রতিটা বাজারের চিত্র একই। এসব বাজারে সকাল থেকেই ক্রেতাদের আনাগোনা শুরু হয়। বিক্রেতাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য নেই মুখে মাস্ক হাতে গ্লাভস ঠিক তেমনি অধিকাংশ ক্রেতাদেরও মাস্ক ও গ্লাবসের ব্যবহার নাই। খালি হাতেই টাকা লেনদেন পণ্য আনা নেয়া চলছে। খিলগাঁও রেললাইনের পাশঘেষা বাজারের প্রথম গলিতে বেকারি আইটেম থেকে শুরু করে মশলা, মুদির দোকান, দা বটির দোকান, কসমেটিক, কাপড় ও পশু পাখির খাবারের দোকান রয়েছে। বাজারের বাইরে সবজি ফলমূলের দোকান। দুপুর ১২ টায় সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ছোট এই গলিতে শতশত ক্রেতারা আসা যাওয়া করছেন। বলতে গেলে পা ফেলার জায়গা নেই। প্রতিটা দোকানের সামনে ভীড় করছেন ক্রেতারা। কথা হয় শাহাজাহানপুর এলাকার বাসিন্দা নুর মোহাম্মদের সঙ্গে। বলেন, আজ ৫ দিন পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বাসা থেকে বের হলাম। বাজারে এসে দেখি মানুষের ভীড়। তাই বাজারে প্রবেশের সাহস পাচ্ছি না। তিলপাপাড়ার বাসিন্দা সৈকত হাসান বলেন, নিজে সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করছি। কিন্তু বাজারে আসা অনেকেই সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করছেন না। কার শরীরে করোনা সংক্রমন আছে তা আমরা জানি না। তাই বাজারের এমন চিত্র দেখে ভয় পাচ্ছি। কিছু পণ্য কেনার জন্য বাজারে না এসে উপায় নাই। তাই প্রশাসনের এ বিষয়ে নজর দেয়া দরকার।
বাড্ডা এলাকার বিভিন্ন গলির কাঁচা বাজার, মুদির দোকান দুপুর ২ টার মধ্য বন্ধ হয়ে যায়। আর বাজারের দোকানপাট বিকাল পর্যন্ত খোলা থাকে। যতক্ষণ খোলা থাকে ততক্ষণ মানুষের খুব বেশি জটলা থাকে। এলাকার বাসিন্দারা বাজার করার জন্য হুমড়ি খেয়ে বসেন। সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবহার নাই উল্টো জটলা বেধে একে ওপরের সংস্পর্শে এসে পণ্য কিনেন। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল টিম মাঝেমধ্যে আসলে মানুষ সরে যায়। কিন্তু তারা চলে গেলে আবার আগের অবস্থা। বাজার করতে এসে কেউ থু থু ফেলছে, কেউ কাশি দিচ্ছে। বলতে গেলে কারো মাঝে কোনো সচেতনতা নাই।
এদিকে বাসাবো এলাকার বৌ বাজারে গিয়ে একই চিত্র দেখা গেছে। এখানে প্রতিদিন সকাল থেকে রাস্তার পাশে অস্থায়ী সবজি ও মাছের বাজার বসে। আশে পাশের বাসিন্দারা দলবেঁধে বাজার করেন। সামাজিক দুরত্ব মেনে চলাতো দুরের কথা একে ওপরের গাঁ ঘেষে হাঁটাচলা করেন। দুপুরে মালিবাগ বাজারে গিয়ে দেখা যায় সেখানেও ক্রেতাদের ভীড়। সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়াই বাজারে এসেছেন অনেকে। একইভাবে শান্তিনগরসহ আরও কিছু বাজারে চিত্র একই। ওদিকে ঢাকার সবচেয়ে বড় কাঁচাবাজার নামে খ্যাত কাওরানবাজারের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। সবজি, ফলমূল ও অন্যান্য পণ্যর পাইকারি বাজার হওয়াতে এখানে দিন রাত হাজার হাজার মানুষের আনাগোনা। বিশেষকরে রাত হলে এ বাজারের পরিবেশ জমজমাট হয়ে উঠে। সন্ধ্যার পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পণ্যবাহী গাড়ি আসতে শুরু করে। তারপর থেকে ক্রেতা বিক্রেতাদের ভীড় বাড়তে থাকে। একই অবস্থা থাকে পরেরদিন সকাল পর্যন্ত। এই সময়টা কাওরানবাজারে পা ফেলার উপায় থাকে না। করোনা পরিস্থিতিতে কিছুটা কম হলেও এ বাজারে ঝুঁকি চরমে। শহরের বিভিন্ন এলাকার পাইকারি পণ্য কিনতে যাওয়া ব্যবসায়ীরা সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করেন না। এছাড়া আড়তের কর্মচারীদের একই অবস্থা।