ব্রিটেনে ধেয়ে আসছে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ‘ডেনিস’

1814

ওয়ানবাংলানিউজ ডেস্ক: উত্তর আটলান্টিক থেকে যুক্তরাজ্যের দিকে প্রবল গতিতে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ডেনিস। দেশটির আবহাওয়া অফিস বলছে, আটলান্টিকে এই ঝড় প্রবল শক্তি সঞ্চল করে বোমা ঘূর্ণির রূপ নিয়েছে। এর ফলে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে অপ্রত্যাশিত বন্যা ও মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ভয়ঙ্কর এই ঝড়ের তাণ্ডবের শঙ্কায় বাজেট এয়ারলাইন ইজিজেট যুক্তরাজ্যে তাদের ২৩৪টি ফ্লাইটের উড্ডয়ন এবং অবতরণ বাতিল করেছে। এতে ৪০ হাজারের বেশি যাত্রী সমস্যার মুখে পড়েছেন।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল থেকে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অংশে ঘণ্টায় ৭০ মাইলের বেশি শক্তি নিয়ে প্রবল বাতাসের সঙ্গে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া দফতর।

সর্বশেষ এই ঝড়-সহ চলতি বছরে যুক্তরাজ্যে মোট ৪টি শক্তিশালী ঝড় আঘাত হানছে। গত সপ্তাহে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটারের বেশি প্রবল বাতাস নিয়ে ঘূর্ণিঝড় সিয়ারা আঘাত হানে। ফলে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভারী বর্ষণের কারণে বন্যাও দেখা দেয়। সেই ঝড়ের তাণ্ডবের ক্ষত না শুকাতেই আবারও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ডেনিসের মুখোমুখি হয়েছে যুক্তরাজ্য।

গত সপ্তাহে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় কিয়ারাকে গত এক শতাব্দির মধ্যে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যে এই ঝড়ের তাণ্ডবে ৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। এক হাজার ২০০ মাইল প্রশস্ত ঘূর্ণিঝড় ডেনিস দেশটির ইয়র্কশায়ারের ক্যাল্ডার ভেলিতে মহাবিপদ ডেকে আনতে পারে। কারণ এই অঞ্চলটি গত সপ্তাহের ঘূর্ণিঝড় কিয়ারার তাণ্ডবে এখনও পানির নিচে রয়েছে।

ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মিরর দেশটির আবহাওয়া দফতরের বরাত দিয়ে বলছে, শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে দুপুরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ডেনিস আঘাত হানতে পারে।

ব্রিটিশ আবহাওয়া দফতর গত ৭দিনে অন্তত ৮ বার আবহাওয়া সতর্কতা জারি করেছে। এতে স্কটল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চল, উত্তর ইংল্যান্ড, ওয়েলস এবং দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে ঘূর্ণিঝড় ডেনিস। এসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির কারণে মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করে দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

আবহাওয়া দফতর বলছে, ঘূর্ণিঝড় ডেনিস বোমা সাইক্লোনের রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ঝড়ের কারণে বাতাসের চাপ কমে গেছে ২৪ মিলিবার। এই ঝড়ের তাণ্ডবের আশঙ্কায় ইজিজেটের পাশাপাশি ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ-সহ বেশ কিছু বিমান সংস্থা যুক্তরাজ্যে বিমানের চলাচল স্থগিত করেছে।