গাড়িবহর, ব্যক্তিগত বিমান ও ইয়ট থাকলেও ‘কপর্দকশূন্য’ আম্বানি

467

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সাবেক ভারতীয় ধনকুবের ও বিশ্বের এক সময়কার ষষ্ঠ ধনী ব্যক্তি অনিল আম্বানি শুক্রবার যুক্তরাজ্যের একটি আদালতে ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি কপর্দকশূন্য ও দেউলিয়া।

তিনটি চীনা ব্যাংক ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না লিমিটেড, চায়না ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়না ৫ হাজার কোটি রুপির জন্য যুক্তরাজ্যের উচ্চ আদালতে আম্বানির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। রিলায়েন্স কমিউনিকিশনের নেওয়া ঋণ সুদে আসলে ফেরত চাওয়ার মামলায় তাকে আদালতের মুখোমুখি হতে হয়।

ব্যাংকগুলোর দাবি, এই ঋণের আবেদনের সময় আম্বানি ব্যক্তিগত নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন। যদিও তিনি তা অস্বীকার করেছেন।

শুক্রবার শুনানিতে আম্বানির ছেলে আনমল উপস্থিত ছিলেন। ব্যাংকগুলো আদালতকে আগেই ৬৫৬ মিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিতে অনুরোধ জানায়। কিন্তু আদালত তাকে ১০০ মিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

বিচারক ওয়াকসম্যান আম্বানির বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তার বক্তব্য মিথ্যাচারে পূর্ণ। তিনি স্পষ্টভাবে অসত্য বলছেন। যা দাবি করেছেন তার চেয়ে বেশি সম্পত্তি বা আয় রয়েছে তার। তার পরিবারের সদস্যদের সামর্থ্য আছে এবং তারা চাইলে আদালতের নির্দেশ মোতাবেক ১০০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধে সক্ষম।

বিচারক আরও বলেন, মুকেশ যদি বলেন যে এতো বিশাল সম্পত্তি থাকার পরও ১০০ মিলিয়ন ডলার ধার দিতে না পারেন; তাহলে তা হবে অবাক করার মতো ঘটনা। এটি একটি অতি ধনী পরিবার, যে পরিবারের সবাই একে অন্যকে সহযোগিতা করেন। তিনি যে সীমিত সম্পত্তি থাকার দাবি করছেন, তা আমি বিশ্বাস করি না।

আম্বানি আদালতকে বলেন, বাইরের কোনও উৎস থেকে তিনি আদালতের নির্দেশিত অর্থ সংগ্রহ করতে পারবেন না।

এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি মুকেশ আম্বানির ভাই হওয়ার পরও এই অর্থ দিতে পারবেন না বলে দাবি করেন তিনি। আম্বানি আরও দাবি করেন, টেলিকম সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ায় তিনি একেবারে আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং দেউলিয়া।

তখন বিচারক প্রশ্ন করেন, দেউলিয়া হওয়ার বিষয়ে তিনি ভারতে মামলা করেছেন? কেউ কি খুঁজে দেখেছেন? আমি আশা করি কেউ বিষয়টি জানে। কী ঘটছে আমি তা জানতে চাই।
আম্বানির আইনজীবী জবাব দেন, না তিনি এখনও তা করেননি। ভারতে অল্প কিছুদিন আগে দেউলিয়া আইন জারি হয়েছে। ভারতের আইন নিয়ে এখানকার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ কোনও কাজে আসবে না।

আম্বানি দাবি করেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি ৩০৫ মিলিয়ন ডলার ঘাটতিতে আছেন। ২০১২ সালের মার্চে তার সম্পদের পরিমাণ ৭ বিলিয়ন ডলার হলেও ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তা শূন্যতে এসে নেমেছে।

ব্যাংকগুলোর আইনজীবী দাবি করেন, আম্বানির দারিদ্র্যতার দাবিতে বৈপরিত্য রয়েছে। কারণ তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। তার রয়েছে বিলাসবহুল গাড়ির একটি বহর যেগুলোর মূল্য প্রায় তিন মিলিয়ন ডলার, তিয়ান নামের অভিজাত ইয়টের বর্তমান মূল্য ৫৬ মিলিয়ন ডলার, যা তিনি স্ত্রীকে উপহার হিসেবে দিয়েছেন। এছাড়া তার রয়েছে ব্যক্তিগত বোম্বারডিয়ার বিমান ও হেলিকপ্টার।
এ সময় বিচারক বলেন, যে কেউ প্রশ্ন করতে পারে কেন আদালতকে অর্থ দিতে আম্বানি নিজের এসব সম্পত্তি বিক্রি করতে পারেন না!

আদালতে দাখিল করা আম্বানির সম্পত্তির হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি মা কোকিলা ও ছেলে আনমলের কাছ থেকে ১১৩ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন