ঢাকা সংবাদদাতা: ইউরোপীয় ইউনিয়নের সফররত প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রোহিঙ্গা নেতাদের ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়েছে।
এ সময় রোহিঙ্গা নেতারা জানিয়েছেন, তারা উদ্বাস্তু জীবনের অবসান চান। যত দ্রুত সম্ভব নূন্যতম অধিকারগুলোর নিশ্চয়তা দিয়ে রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমি রাখাইনে ফিরিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে ইইউ প্রতিনিধি দলের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকার কমিশনারের বিশেষ প্রতিনিধি সাবেক আইরিশ প্রধানমন্ত্রী এ্যামন গিলমার নেতৃত্ব দেন।
কুতুপালং ২নং ক্যাম্পের ডি-৫ ব্লকের একটি কমিউনিটি সেন্টারে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা কুতুপালং ডি-৫ এ রোহিঙ্গাদের সাবান ফ্যাক্টরি ও টিভি টাওয়ার সংলগ্ন ঘুমধুম ট্রানজিট ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এ সময় এ্যামন গিলমার ১৫ জন পুরুষ রোহিঙ্গার সঙ্গে মিয়ানমারের আর্মি কর্তৃক হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা গভীর মনোযোগ সহকারে শুনেন।
প্রতিনিধি দলের কাছে রোহিঙ্গা নেতারা তাদের দাবির কথা তুলে ধরেন। আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মাস্টার মহিবুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের আশ্রয় ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা নিরাপত্তাসহ নানা বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন। এখানে প্রতিনিয়ত জীবনের হুমকিমূলক ঘটনা ঘটছে। এতোগুলো মানুষ এক সঙ্গে অবস্থান করায় কোনো ধরনের সামাজিক আচার আচরণ ও শৃংখলা নেই।
তিনি বলেন, প্রতিনিধি দল বুধবার মিয়ানমার সফরে যাবেন তাই তারা আমাদের দিক থেকে সমস্যাগুলো জানতে চান। নিরাপত্তার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মৌলিক আচার আচরণ থেকে ছিটকে পড়ে রোহিঙ্গাদের পরবর্তী প্রজন্ম বাউন্ডেলে হয়ে যাওয়ার আশংকার কথা তাদের বলেছি।
যত দ্রুত সম্ভব নূন্যতম মৌলিক অধিকার দিয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে নিজ দেশ মিয়ানমারের রাখাইনে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করতে দাবি জানিয়েছেন বলে রোহিঙ্গা নেতারা জানান।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সফররত বিশেষ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, কুতুপালং ১-২ ক্যাম্পে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিনিয়র সচিব মো. রেজাউল করিমসহ সরকারি কর্মকর্তা, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি ছাড়াও রোহিঙ্গাদের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি বৈঠকে অংশ নেন।















