ঢাকা সংবাদদাতা: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন সম্পূর্ণভাবে ধূলিসাৎ করে দিয়ে আওয়ামী লীগ একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে।
আজ সোমবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলের হলরুমে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’ শীর্ষক মতবিনিময় সভার স্বাগত বক্তব্যে বিএনপি নেতা এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস নিয়ে সাংবাদিক থেকে শুরু করে সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দেশে যে কর্তৃত্ববাদী শাসন চলছে, তাকে আরো চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠার জন্য সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে।’
‘আমরা যে স্বপ্ন দেখেছিলাম মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে, সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সম্পূর্ণভাবে ধূলিসাৎ করে দেওয়া হচ্ছে। গণতান্ত্রিক, মুক্ত স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ভেঙে ফেলা হচ্ছে।’
বিএনপির মহাসচিব আরো বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ করছি, বহু মত, বহু পথ, ভিন্নমতের ব্যবস্থাকে পুরোপুরি শেষ করে দিয়ে একটি দলের শাসন বাস্তবায়নের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধ্বংস করা হচ্ছে। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না।’ দেশের সব মানুষকে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপি আয়োজিত এই সভায় দলের কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, কূটনীতিকরা অংশ নেন। সভায় কার্যপত্র উপস্থাপন করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ; সঞ্চালনা করেন প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
বিএনপি নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, রুহুল আলম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন বক্তৃতা করেন।
এ ছাড়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নয়া দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক মো. আলমগীর মহিউদ্দিন, বাংলাদেশের খবর সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন, হলিডে সম্পাদক সৈয়দ কামাল উদ্দিন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, ইনকিলাবের সহকারী সম্পাদক মেহেদী হাসান পলাশ, বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, ডিইউজের (একাংশ) সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সমকালের প্রধান প্রতিবেদক লোটন একরাম, আমার দেশের বার্তা সম্পাদক জাহিদ চৌধুরী, ল রিপোর্টার্স ফোরাম সভাপতি সাইদ আহমেদ খান, কলামিস্ট হাসান আবেদ চৌধুরী কিরণ ও এসএ টিভির বিশেষ প্রতিনিধি ইলিয়াস হোসেন বক্তব্য দেন।
বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, মামুন আহমেদ, আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শামা ওবায়েদ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, নির্বাহী কমিটির সদস্য সাঈদ সোহরাব, সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক সাজু, জেবা খান, শামসুজ্জামান সুরুজ, বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার, শায়রুল কবীর খান প্রমুখ।
সাংবাদিকদের মধ্যে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক আশীষ সৈকত, জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, আমাদের সময়ের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মামুন স্ট্যালিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্য, কানাডা, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, রাশিয়া, তুরস্ক ও ভিয়েতনাম দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।















