সিলেট সংবাদদাতা: সিলেটের রাজপথেও সক্রিয় থাকবে বিএনপি। চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে তারা আগামীকাল থেকে নামছেন আন্দোলনে। মামলার হুলিয়া মাথায় থাকলেও বিএনপির সবপর্যায়ের নেতাদের এক সঙ্গে মাঠে নামার নির্দেশনা দিয়েছেন সিনিয়র নেতারা। তবে, বসে নেই আওয়ামী লীগও। কেন্দ্রীয় গণসংযোগ কর্মসূচি পালনে তারাও মাঠে নামবে। যারাই বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি করতে চাইবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের মোকাবিলা করা হবে। মামলার পর মামলায় বিপর্যস্ত সিলেট বিএনপি। সিনিয়র নেতা অনেকেই কারাগারে।
আবার কেউ কেউ মামলার ভয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে আছেন। এরপরও সিলেট বিএনপির নেতারা আন্দোলনে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার রাতে সিলেটে জরুরি বৈঠক করেছে মহানগর বিএনপি। বৈঠকে মহানগর সভাপতি নাসিম হোসাইন জানিয়েছেন- ‘সরকার গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়াকে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় কারাগারে আটকে রেখে সংকটকে আরো গভীর করেছে। এই সংকট মোকাবিলায় বিএনপি ৭ দফা দাবি ঘোষণা করেছে। বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেয়া ফরমায়েসি সাজা বাতিল ও বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাসমূহ প্রত্যাহার সহ ৭ দফা দাবি মানতে সরকারকে বাধ্য করা হবে।
বিএনপি কেন্দ্র ঘোষিত আগামী ৪ঠা অক্টোবর বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠান সফল করতে মহানগর বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে।’ সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেক গতকাল বিকালে জানিয়েছেন- ‘সিলেট বিএনপির নেতারা মামলায় জর্জরিত। কিন্তু চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে বিএনপির সব নেতা মাঠে থাকবেন। আন্দোলনে আমরা পিছপা হবো না। অতীতের মতো আগামীতেও আমরা রাজপথ দখলে রাখবো।’ রাতের জরুরি সভায় বক্তব্য রাখেন- মহানগর বিএনপির সহসভাপতি হুমায়ুন কবির শাহীন, সহসভাপতি জিয়াউল গণি আরেফিন জিল্লুর, রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, আব্দুস সাত্তার, জিয়াউল হক জিয়া, আব্দুর রহিম, বাবু নিহার রঞ্জন দে, সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম সিদ্দিকী, আলী হোসেন বাচ্চু, অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান সাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক মুকুল মোর্শেদ ও মাহবুব চৌধুরী, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক নুরুল আলম সিদ্দিকী খালেদ, কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট আবুল ফজল, দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ রেজাউল করিম আলো, প্রচার সম্পাদক শামীম মজুমদার, মহানগর মহিলা দল সভানেত্রী জাহানারা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদিকা নিগার সুলতানা ডেইজি, মহানগর ওলামা দল সভাপতি মাওলানা মঈনুদ্দিন ফয়েজ ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাসুদ আহমদ, মহানগর ছাত্রদল সভাপতি সুদীপ জ্যোতি এষ ও সাবেক ছাত্রনেতা কয়েস আহমদ প্রমুখ।
এদিকে- বসে নেই আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনে আওয়ামী লীগ নেতারা সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকবে। সামগ্রিক বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন নেতারা। তাঁরা এখন গণসংযোগ কর্মসূচির দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে গণসংযোগ কর্মসূচি পালনে তারা মাঠে নামবেন। পাড়ায় পাড়ায় চালানো হবে এই কর্মসূচি। গণসংযোগ কর্মসূচির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতারা মাঠে সক্রিয় হবেন বলে জানিয়েছেন নেতারা। শুধু সিলেট মহানগরীতেই নয়, জেলাতেও একই ধরনের কর্মসূচি পালন করা হবে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহানগর সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান জানিয়েছেন- ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। দেশের মানুষ শান্তিতে আছে, স্বস্তিতে আছে। কোনো ধরনের টেনশন নেই। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশও বিরাজমান। এই অবস্থায় মানুষের জানমালের ক্ষতি করতে চাইলে জনগণই এর পাল্টা জবাব দেবে।’ তিনি বলেন- ‘কেন্দ্রীয় কর্মসূচি নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি। শিগগিরই কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচি পালনে আমরা পাড়ায় পাড়ায় গণসংযোগ চালাবো। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন বার্তা নিয়ে আমরা মানুষের কাছাকাছি যাবো।’















