ঢাকা সংবাদদাতা: আজ থেকে ১৪ বছর আগে এই দিনে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা হয়। ওই হাামলায় করা দুই মামলার বিচারকাজ এখন শেষ পর্যায়ে। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রাষ্ট্রপক্ষ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ৪১ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আদালতে আবেদন জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা জানান, সেপ্টেম্বরে মামলার রায় হতে পারে। বর্তমানে সর্বশেষ আসামি লুৎফুজ্জামান বাবরের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে।
অন্যদিকে এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান জানান, মামলার বিচারকাজ শেষ পর্যায়ে। এখন আসামি বাবরের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ এক বা দুই দিন আইনগত জবাব দেবে। রাষ্ট্রপক্ষ যেদিন শেষ করবে, আইন অনুযায়ী ওই দিনই আদালত রায়ের তারিখ ধার্য করবেন। রেজাউর রহমান আরো বলেন, ‘বাবরের বাকি যুক্তিতর্ক যদি চার থেকে সাত কার্যদিবসে শেষ হয়, তাহলে সেপ্টেম্বরে রায় হবে বলে আশা করছি।’
এর আগে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে তারেক, বাবর, পিন্টুসহ ৪১ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন। তাদের বিরুদ্ধে মানুষ হত্যা, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা, পরিকল্পনা ও সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এছাড়াও বাকি আটজনের বিরুদ্ধে কর্তব্যকাজে অবহেলা, আলামত নষ্ট, তদন্ত ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা এবং আসামিকে দেশত্যাগের সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়। এই আটজনের পাঁচ থেকে সাত বছর কারাদণ্ড দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
অবশ্য এ মামলার বিচার শুরু হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেই। এরপর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপক্ষ মামলার অধিকতর তদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করে। আদালতের অনুমোদনের পর সিআইডির কর্মকর্তা আবদুল কাহ্হার আকন্দ অধিকতর তদন্ত করে ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্র দেন। তাতে তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, হারিছ চৌধুরী, জামায়াতের নেতা মুজাহিদসহ ৩০ জনকে নতুন করে আসামি করা হয়। এ নিয়ে হত্যা মামলায় মোট আসামি হয় ৫২ জন এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলায় ৪১ জন।
এর মধ্যে আসামি মুফতি হান্নান ও তার সহযোগী শরীফ শাহেদুল ইসলাম এবং জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদের অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হয়। ফলে এখন হত্যা মামলার আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯। আর বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় আসামি ৩৮ জন।















