শ্রমিকদের নৈরাজ্যে বিপাকে সাধারণ মানুষ

430

ঢাকা সংবাদদাতা: পরিবহন ভাঙচুর, শ্রমিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও তাদের নিরাপত্তার দাবিতে রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের সামনে সড়ক অবরোধ করে রেখেছে পরিবহন শ্রমিকরা। এসময় টার্মিনাল থেকে কোনো পরিবহন ছাড়েনি। শুক্রবার (৩ আগস্ট) সকাল থেকে শ্রমিকরা এ নৈরাজ্য শুরু করে।

রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন গড়িয়েছে ষষ্ঠ দিনে। বেশিরভাগ গণপরিবহন ও চালকের কাগজপত্র ঠিক না থাকায় রাস্তায় নামছে না তারা। ফলে রাজধানীবাসীর জন্য আপাতত রিকশাই প্রধান ভরসা। কিন্তু এদিন সকাল থেকে রিকশা চলাচলেও বাধা দিচ্ছে গণপরিবহনের শ্রমিকরা। মাঝরাস্তায় যাত্রী নামিয়ে দিয়ে রিকশা উল্টে চালকদের জিম্মি করে রেখেছে বাস শ্রমিকরা।

শুক্রবার সকাল ৯ থেকে রাজধানীর বেশ কয়েকটি পয়েন্টে নিরাপত্তার দাবিতে রাজধানীর অভ্যন্তরীণ সব ধরনের পরিবহন চলাচলে বাধা দিয়েছে বাস শ্রমিকরা। সেই সঙ্গে সকল প্রকার যানবাহনের পাশাপাশি রিকশা চলাচলেও বাধা দিচ্ছে তারা। শ্রমিকদের বাধার মুখে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে রিকশা থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছেন।

শ্রমিকদের দাবি, সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা কাজে যোগ দেবে না। তারা আরও বলছেন, গত কয়েক দিনে তাদের অনেক গাড়ি ভাঙা হয়েছে, পোড়ানো হয়েছে। লাইসেন্স দেখার কথা পুলিশের, অথচ দেখছে ছাত্ররা। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাই সরকারের প্রতি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা বলেন, গত কয়েক দিনে আমাদের অন্তত পাঁচ শতাধিক গাড়ি ভাঙা হয়েছে। চালক ও হেলপাররা হামলার শিকার হয়েছে। এটা শিক্ষার্থীদের আচরণ হতে পারে না। শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেয়ার পরেও তারা এমন আন্দোলন করছে।

এদিকে শ্রমিকদের আন্দোলন থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সায়েদাবাদ বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। তিনি শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা আন্দোলন প্রত্যাহার করুন। আমরা উচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো।