ঢাকা সংবাদদাতা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যই নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর সরকারি নাশকতারই ইঙ্গিতবাহী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনরত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর হঠাৎ করে সশস্ত্র নিষ্ঠুর হামলা চালায় পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন রিজভী। তিনি বলেন, গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নাশকতার আশঙ্কা করে নানা কথা বলেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পরপরই শুরু হয়ে গেল শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের আক্রমণ। সুতরাং এটা সুষ্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্যাবোটাজের বক্তব্য মূলত: সরকারি নাশকতারই ইঙ্গিতবাহী।
দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যাটি জনগণের সামনে খুলে ধরার জন্য স্কুল-কলেজ পড়া সকল কিশোর-কিশোরীদের আমরা অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, গাড়ির বৈধ কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ইন্সুরেন্সের মতো অতি সাধারণ বিষয়গুলোও সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। রাজপথে ট্রাফিক অব্যবস্থা, শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসতে যে সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রম ছাড়া আর কিছু লাগে না, তা এই শিশু-কিশোররা মাত্র দু’দিন কাজ করে প্রমাণ করে দিয়েছে। এসব বালক-বালিকা’রা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে অবৈধ সরকার কোনো কাজই করতে পারে না।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের যৌক্তিক দাবিগুলোকে অগ্রাহ্য করার জন্যই মন্ত্রীদের নির্দেশেই গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে অভিযোগ করে বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নিরাপত্তার জন্য পরিবহন মালিকরা বাস রাস্তায় নামাচ্ছে না। আপনারা গতকাল দেখেছেন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা গাড়ী চলতে বাধার সৃষ্টি করেনি। বরং তারা সুশৃঙ্খলভাবে গাড়ী চলতে সহায়তা করেছে।
অবিলম্বে দেশ পরিচালনায় লাইসেন্সহীন সরকারের পদত্যাগ দাবি জানিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু নিয়ে হাসি-তামাশা ও পরিবহন সেক্টরে অরাজকতা সৃষ্টিকারী নৌপরিবহন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ নিরাপদ সড়কের গণদাবিকে জনগণ ন্যায্য বলে মনে করে।















