লন্ডন টাওয়ারে আগুন: মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে

1874

ওয়ানবাংলানিউজ: ওয়েস্ট লন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ারে অগ্নিকান্ডে নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। খবর ইন্ডিপেন্ডেন্ট। পুলিশ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন শুরু করেছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের কমান্ডার স্টুয়ার্ট কন্ডি বলেছেন, পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তারা তদন্ত শুরু করেছেন। তদন্ত করে দেখা হবে ভবন নির্মান, ডিজাইন বা আগুনের জন্য কোন ব্যক্তির দায় আছে কিনা।

এদিকে গ্রেনফেল টাওয়ার ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনার পূর্ণ সরকারি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে। ২৪ তলা ওই ভবনে লাগা আগুনে এ পর্যন্ত ১৭ জন নিহত হয়েছেন নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
কিভাবে এমন ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হল তা নিয়ে সরকার প্রশ্নের মুখে পড়েছে। জনগণের এ প্রশ্নের উত্তর দিতেই ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তেরেজা মে।
অগ্নিকান্ডের ঘটনায় বাঙালী এক পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজ রয়েছেন। ধারনা করা হচ্ছে হয়ত তারাও করুন পরিনতি শিকার হয়েছেন।

বিবিসি জানায়, বুধবার মধ্যরাতে আগুন ছড়িয়ে পড়ার সময় ভবনটিতে ‘কয়েকশত’ লোক ছিল বলে বোঝা গেছে এবং তাদের অধিকাংশই ঘুমিয়ে ছিল। আবাসিক ওই টাওয়ারটিতে ১২০টির মতো ফ্ল্যাট ছিল। ঘটনার একদিন পরও আগুন লাগার কারণ বের করা যায়নি।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিখোঁজদের ছবি পোস্ট করে তাদের খোঁজ পেলে জানানোর জন্য আবেদন করছে স্বজনরা। প্রধানমন্ত্রী মে বলেছেন, আগুন কেন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল তা জানার অধিকার মানুষের আছে। তদন্ত থেকেই তারা তা জানতে পারবে। মে এর আগে কিছু সময়ের জন্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি জানান, জরুরি সেবাদন কর্মীরা তাকে বলেছে যে, আগুন যেভাবে ছড়িয়ে পড়ে গোটা ভবনকে গ্রাস করেছে তা ভয়াবহ এবং অপ্রত্যাশিত।

মে বলেন, “অগ্নিকান্ড নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যে প্রতিবেদন তৈরি করা হবে এবং পুলিশ যে তদন্ত চালাবে তার পাশাপাশি বিষয়টি আরও ভালভাবে খতিয়ে দেখার জন্য আমাদের একটি পূর্ণ সরকারি তদন্ত করে দেখাটাই সঠিক সিদ্ধান্ত।”

লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং কমিউনিটি নেতাদেরকে বলেছেন, “সত্য বেরিয়ে আসবে”।