ঢাকা সংবাদদাতা : খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের দেওয়া ওষুধে তার রোগ ও যন্ত্রণার কোন লাঘব হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার বিকালে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ অভিযোগ করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্বাস্থ্যের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আর মূল বিষয় হচ্ছে, তার জন্য যে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে, তারা যে ওষুধ দিচ্ছে সেই ওষুধ তার রোগ ও যন্ত্রণা লাঘবে কোন কাজে আসছে না। সুতরাং পরিবেশটা পরিবর্তন করা প্রয়োজন।
কয়েক দফা বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি না দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, অসুস্থতার কারণে তিনি দেখা করতে পারেননি। এই কতদিন বেগম জিয়া অসুস্থ ছিলেন, এখনও তিনি অসুস্থ আছেন। আর আজকে আমরা তাকে যা দেখেছি, এতে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছি। তার শরীর আসলেই অত্যন্ত খারাপ। এবং তিনি যে হাসপাতালে (ইউনাইটেড হসপিটালে) চিকিৎসার কথা বলেছেন, সেখানে রেখে তার আশু চিকিৎসার প্রয়োজন। আর তিনি যে বর্ণনা দিয়েছেন, তার বা হাত আস্তে আস্তে শক্ত হয়ে যাচ্ছে এবং বা হাতের ওজনও বেড়ে গেছে। বাম পা থেকে শুরু করে পিছন পর্যন্ত ব্যথা বেড়ে গেছে। সুতরাং এখন সাধারণভাবে হাঁটা-চলা করাও তার জন্য মুশকিল হয়ে পড়েছে। আর এতে আস্তে আস্তে নিউরো সমস্যার সৃষ্টি হয় এবং ক্ষয় হয়ে যায়। আর এক সময় এটা প্যারালাইসি হয়ে যেতে পারে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের চোখের সমস্যা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বেগম জিয়ার ডান চোখটা লাল হয়ে গেছে। তাই আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি, সরকারের আর বিলম্ব না করে অবিলম্বে তিনি যে হাসপাতালে যেতে চেয়েছেন ‘ইউনাইটেড হসপিটাল’, সেখানে রেখে তাকে চিকিৎসা দেয়া বিশেষভাবে প্রয়োজন। এটা সরকারের দায়িত্ব। আর যদি এর কোন ব্যত্যয় ঘটে বা শারীরিক কোন ক্ষতি হয় তার দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।
প্রায় সোয়া ১ ঘন্টাব্যাপী এ সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব জানান, বেগম জিয়া দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন। আজ জাতি ও দেশের জন্য যে দু:সময় চলছে, তার যেন অবসান ঘটে এবং মানুষের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের আন্দোলন করে যেতে বলেছেন গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য।
এরআগে ৩ টা ৫০ মিনিটে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কারাগারের প্রবেশ করে। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খান।















