গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচন ১৫ মে

775

ঢাকা সংবাদদাতা: গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৫ মে ভোটগ্রহণ করা হবে। আর মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন ১২ এপ্রিল।

শনিবার শেরেবাংলা নগরের নির্বাচন ভবনে কমিশনের সভা শেষে এ তফসিল ঘোষণা করা হয়। জানা গেছে, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হবে ২৫ সেপ্টেম্বর।

স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন অনুযায়ী কর্পোরেশনের প্রথম বৈঠক থেকে পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিন আগে যে কোনো সময় ভোট করতে হবে।

আইন অনুযায়ী গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের দিন গণনা ৮ মার্চ ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের দিন গণনা ৩০ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে। এ কারণে কমিশন এ দুটি সিটি কর্পোরেশনের তফসিল ঘোষণা করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন আগামী জাতীয় নির্বাচন এই ইসির অধীনে কতটা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে তা নির্ভর করছে ৫ সিটি নির্বাচনের ওপর। জাতীয় নির্বাচনের আগে এই নির্বাচনে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হলে ইসির প্রতি সাধারণ মানুষের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে বলে উল্লেখ করেন। ইসির পক্ষ থেকে ৫ সিটি নির্বাচনকে টেস্ট কেস হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে গত বুধবার স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে ইসিকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে জাতীয় নির্বাচনের আগে পাঁচ সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোন আইনী জটিলতা নেই।

এর আগে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেও স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে পরামর্শ চাওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সরকার বিভাগের পরামর্শ অনুয়ায়ী ঢাকা উত্তর সিটির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দুই সিটিতে নতুন করে ১৮ ওয়ার্ড যোগ হওয়ায় নির্বাচন নিয়ে আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হয়। ফলে তফসিল ঘোষণা করেও উত্তর সিটির মেয়র পদে উপনির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। আদালতের আদেশে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, এর আগে ঢাকার দুই সিটির তফসিল ঘোষণা করার পর জটিলতা থাকায় হাইকোর্টে রিট করলে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে কোন রকম সমালোচনার মুখে পড়তে চায় না কমিশন। আর তাই এ পাঁচ সিটিতে জটিলতা এড়াতে মন্ত্রণালয়কে ওই চিঠি দেয়া হয়েছিল। স্থানীয় সরকার বিভাগের মতামতের পর এখন আর কোন বাধা রইল না ৫ সিটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে। ইসি এখন সুবিধামতো সময়ে নির্বাচনের প্রস্ততি গ্রহণ করছে।

ইসির অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান বলেন, আমরা স্থানীয় সরকার বিভাগের ক্লিয়ারেন্স পেয়েছি, আইনগত ও সীমানা সংক্রান্ত কোন জটিলতা নেই। তাই গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।