দেড় হাজার ইউরোপীয় নাগরিকের অধিকার বাতিল,হোম অফিসের বিরুদ্ধে মা*মলা

48

সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রায় দেড় হাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকের অধিকার বাতিলের ঘটনায় ব্রিটিশ হোম অফিসের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মা*মলা দায়ের করা হয়েছে। ব্রেক্সিট পরবর্তী প্রত্যাহার চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে অধিকার রক্ষা বিষয়ক প্রচারকারী সংস্থা ‘দ্য থ্রি মিলিয়ন’ এই আইনি পদক্ষেপ নেয়। ভুক্তভোগীদের পূর্বে দেশটিতে থাকার জন্য প্রি-সেটেল্ড স্ট্যাটাস দেওয়া হলেও সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ জানায় যে ওই সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। যথাযথ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ও আপিলের অধিকার না দিয়েই তাদের মর্যাদা কেড়ে নেওয়ায় গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাজ্যে পরিবার নিয়ে বসবাস করা বহু মানুষের জীবন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

হাইকোর্টে দায়ের করা নথিতে উল্লেখ করা হয়, কোনো পূর্ব ঘোষণা বা আইনি সুরক্ষা ছাড়াই হোম অফিস এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। এতে ইউরোপীয় নাগরিকদের আত্মপক্ষ সমর্থন কিংবা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করার মৌলিক অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রেখেই এসব নাগরিক সেখানে স্থায়ী জীবন গড়ে তুলেছিলেন।

এই সিদ্ধান্তের শিকার হয়েছেন লন্ডনে ২০১৮ সাল থেকে বসবাসকারী ৩৩ বছর বয়সী এক ব্রাজিলীয় বংশোদ্ভূত ইতালীয় প্রকৌশলী, যার স্ত্রীকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে এনএইচএসে কর্মরত ও ডেন্টিস্ট্রিতে পিএইচডি গবেষণারত এক নারী জানান, স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এমন হঠাৎ চিঠিতে তার পুরো জীবন ওলটপালট হয়ে গেছে। বিশেষ করে রক্তের সূত্রে ইতালীয় নাগরিকত্ব পাওয়া বহু মানুষ করোনা মহামারির লকডাউনের কারণে সময়মতো পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে না পারায় এই জটিলতায় পড়েছেন।

সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী মনিক হকিন্স ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোনো বিচার ছাড়াই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার মতোই অন্যায়ভাবে মানুষকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে হোম অফিস। তিনি আরও বলেন, ভুল সংশোধনের জন্য বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও স্বরাষ্ট্র দপ্তর নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় বাধ্য হয়েই তাদের আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে।

ব্রেক্সিট চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে হোম অফিসের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম আইনি লড়াই নয়। এর আগে ২০২২ সালেও সরকারি স্বাধীন তদারকি সংস্থা আইএমএ-এর করা মামলায় হেরে গিয়েছিল হোম অফিস, যেখানে তাদের আরোপিত শর্তকে বেআইনি ঘোষণা করেছিল হাইকোর্ট। তবে চলমান এই মামলার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হয়নি স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র।

#যুক্তরাজ্যনিউজ #ব্রেক্সিট #হোমঅফিস #aknews #onebanglanews