পাঁচ বছরেই স্থায়ী হতে পারবেন যুক্তরাজ্যে কেয়ারাররা ,যা জানালেন শাবানা মাহমুদ…

70

সাইফ হাসান: মন্ত্রিসভার তীব্র চাপ ও স্বাস্থ্য ইউনিয়নগুলোর আপত্তির মুখে যুক্তরাজ্যে কেয়ারারদের স্থায়ী বসবাসের কঠোর নীতিতে বড় ধরনের ছাড় দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রায় দুই লাখ ৮০ হাজার কেয়ারার ও তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরা এখন পাঁচ বছর পরই দেশটিতে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার সুযোগ পাবেন। তবে অন্যান্য ক্যাটাগরির বহু কর্মীর ক্ষেত্রে স্থায়ী হতে আগের চেয়ে দ্বিগুণ সময় অর্থাৎ অন্তত ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে। এই নীতি পরিবর্তনের ফলে বৈধভাবে আসা বহু দক্ষ কর্মী বিপাকে পড়তে পারেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ এমপিরা। অন্যদিকে অবৈ*ধভাবে আসা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত করে অপেক্ষার সময় ৩০ বছর পর্যন্ত করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, দেশটিতে স্থায়ী নাগরিকত্ব বা বসবাসের অধিকার এখন আর আগের মতো সহজে পাওয়া যাবে না, বরং কাজের মাধ্যমে তা অর্জন করতে হবে। বছরে এক লাখ ২৫ হাজার পাউন্ডের বেশি আয়কারীরা মাত্র তিন বছরে এবং ডাক্তার, নার্স ও শিক্ষকসহ বছরে ৫০ হাজার ২৭১ পাউন্ড আয়কারী সরকারি কর্মীরা পাঁচ বছরেই স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে বছরে ৫০ হাজার পাউন্ডের নিচে আয় করা গবেষক বা শেফদের মতো সাধারণ কর্মীদের এখন থেকে পাঁচ বছরের বদলে পুরো ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে।

কেবিনেট সদস্য অ্যাঞ্জেলা রেনার ও মিয়াত্তা ফাহনবুলেহর আপত্তি এবং স্বাস্থ্য ইউনিয়নগুলোর আন্দোলনের কারণে অন্তত ২৫ হাজার পাউন্ড আয় করা কেয়ারারদের জন্য ১৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি শর্ত প্রত্যাহার করা হয়। ইউনিসনের সাধারণ সম্পাদক আন্দ্রিয়া ইগান এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বললেও সতর্ক করে দিয়ে জানান, অসৎ নিয়োগকর্তাদের কারণে অভিবাসী কর্মীরা যাতে কোনো বঞ্চনা বা বহিষ্কারের হুমকির মুখে না পড়েন তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিল্প ও রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ এই নীতি শিথিল করার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

লেবার পার্টির সাবেক ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডায়ান অ্যাবট এবং শেফিল্ড সেন্ট্রালের এমপি আবতিসাম মোহাম্মদ সরকারের এই পেছনের তারিখ থেকে নিয়ম কার্যকরের সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিবাদ জানান। তাদের মতে, যারা বৈধভাবে এসে জীবন গড়েছেন, হঠাৎ নিয়ম বদলে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই সুবিচার হতে পারে না। এছাড়া ব্যবসায়ী সংগঠন সিবিআই ও মেক ইউকে সতর্ক করে বলেছে, নিয়মের এমন ঘন ঘন পরিবর্তনে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যুক্তরাজ্য দক্ষ কর্মী ও প্রতিভা ধরে রাখতে মারাত্মক সংকটে পড়বে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই সংস্কারের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ লাখ অভিবাসীকে আগের চেয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হবে, যার ফলে রাষ্ট্রের সামাজিক কল্যাণ খাতের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে সাশ্রয় হবে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য সমর্থকরা দাবি করছেন, যারা সমাজের জন্য সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছেন এবং সঠিক নিয়মে চলছেন তাদেরই আগে স্থায়ী সুযোগ দেওয়া এই নীতির মূল উদ্দেশ্য।

#যুক্তরাজ্য #অভিবাসননীতি #কেয়ারারভিসা #aknews #onebanglanews