সাইফ হাসান: ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে। ইরান বিশ্বের তেল সরবরাহের ৩% উৎপাদন করে। সংঘাতের কারণে তেল সরবরাহে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সোমবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ০.৫% বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৫ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়। তবে দিনের শেষে ইরানের যুদ্ধবিরতির আলোচনার খবরে দাম ৩.৪% কমে ৭১.৭০ ডলারে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রুড তেলের দামও ০.৭% বেড়ে ৭৩.৪২ ডলারে উঠেছিল। গত শুক্রবার তেলের দাম ১৩% বেড়ে জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এই অস্থিরতা বাংলাদেশের মতো তেল আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ।
ইরান বিশ্বের তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, যা প্রতিদিন ২০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করে। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের শাহরান তেল ডিপো, শাহর রে রিফাইনারি এবং দক্ষিণ পার্স গ্যাস ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে তেল সরবরাহে বাধার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে তেল ট্যাঙ্কার চলাচল বন্ধ করে, তাহলে বিশ্বের ২০% তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এটি বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
আরএসএম ইউকে’র অর্থনীতিবিদ থমাস পফ বলেছেন, “ইসরায়েল-ইরান সংঘাত নতুন ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এর ফলে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়বে, যা বাংলাদেশের মতো দেশের ব্যবসা ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।” তিনি জানান, গত সপ্তাহে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০ ডলার বেড়েছে, যার ফলে আগামী দুই মাসে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়তে পারে। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে পেট্রোলের দাম গড়ে ১৩২.১ টাকা প্রতি লিটারে পৌঁছেছে।
শোর ক্যাপিটালের বিশ্লেষক জেমস হোসি বলেছেন, “ইরানের তেল স্থাপনায় সরাসরি ক্ষতি সীমিত থাকলে দামের এই বৃদ্ধি সাময়িক হতে পারে।” তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাত বাড়লে সৌদি আরবসহ অন্যান্য তেল উৎপাদনকারী দেশের রপ্তানি ব্যাহত হতে পারে। বাংলাদেশের জন্য এটি জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে ওপেকের অন্যান্য সদস্য, যেমন সৌদি আরব, তেল উৎপাদন বাড়িয়ে ইরানের ঘাটতি পূরণ করতে পারে।
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ও দৈনন্দিন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি হতে পারে। এটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেবে। অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ এল-এরিয়ান বলেছেন, “এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতির গতি কমিয়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে।” বাংলাদেশ সরকারকে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি আমদানি ও বাজার নিয়ন্ত্রণে কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে হবে।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















