সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যে বাড়ির বাজারে দশকের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি। বাড়ির দাম ০.৩% কমে গড়ে ৩৭৮,৪২০ পাউন্ড হয়েছে। স্ট্যাম্প ডিউটি বাড়ায় এবং বাজারে বাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধিতে ক্রেতারা দাম-সংবেদনশীল হয়েছেন। এটি বাংলাদেশী প্রবাসীদের জন্য বিনিয়োগের সুযোগ হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের বাড়ির বাজারে জুন মাসে অস্বাভাবিকভাবে দাম কমেছে। রাইটমুভের তথ্য অনুযায়ী, বাড়ির গড় মূল্য ০.৩% কমে ৩৭৮,৪২০ পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে। গত দশ বছরে জুন মাসে দাম গড়ে ০.৪% বাড়লেও এবার উল্টো চিত্র। বাজারে বাড়ির সংখ্যা ১১% বেড়েছে এবং ক্রেতার চাহিদা গত বছরের তুলনায় ৩% বেশি। এই প্রতিযোগিতায় বিক্রেতাদের দাম কমিয়ে ক্রেতা আকর্ষণ করতে হচ্ছে। বাংলাদেশী প্রবাসীরা এই সুযোগে সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি কিনতে পারেন।
ইংল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে এপ্রিলে স্ট্যাম্প ডিউটির ছাড় শেষ হয়, যার ফলে বাড়ি কেনার খরচ বেড়েছে। রাইটমুভের সম্পত্তি বিশেষজ্ঞ কোলিন ব্যাবকক বলেন, “বাজারে বাড়ির সংখ্যা দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। স্ট্যাম্প ডিউটি বৃদ্ধির প্রভাবে বিক্রেতারা প্রতিযোগিতামূলক দাম নির্ধারণ করছেন।” দক্ষিণ-পশ্চিম, দক্ষিণ-পূর্ব এবং লন্ডনে দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে, যথাক্রমে ১.৬%, ১% এবং ০.৯%। এসব এলাকায় বাড়ির সরবরাহও বেশি।
ভাড়া বাজারেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। হ্যাম্পটন্সের গবেষণায় দেখা গেছে, মে মাসে ভাড়াটে নিবন্ধন গত বছরের তুলনায় ১৭% কমেছে। অ্যানিশা বেভারিজ বলেন, “কম মর্টগেজ হারের কারণে ভাড়াটেরা এখন বাড়ি কেনার দিকে ঝুঁকছেন। ভাড়া বৃদ্ধির হার ১.৫%-এ নেমেছে, যা দীর্ঘমেয়াদী গড়ের কাছাকাছি।” তিনি আরও বলেন, আসন্ন ভাড়াটে অধিকার বিল ভাড়া বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। এই বিল গ্রীষ্মে আইনে পরিণত হবে, যা ভাড়াটেদের জন্য বাড়িওয়ালার নোটিশ ছাড়া উচ্ছেদ বন্ধ করবে।
বাংলাদেশী প্রবাসীদের জন্য এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্যে বাড়ির দাম কমায় বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে স্ট্যাম্প ডিউটি এবং মর্টগেজ হারের দিকে নজর রাখা জরুরি। বাজারে বাড়ির সংখ্যা বাড়ায় ক্রেতারা দরদামের সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক দামে বাড়ি কিনলে দীর্ঘমেয়াদে লাভ হতে পারে। বাংলাদেশী কমিউনিটির অনেকে লন্ডন ও দক্ষিণ-পূর্ব এলাকায় বিনিয়োগে আগ্রহী।
ভাড়া বাজারের স্থিতিশীলতা বাংলাদেশী ভাড়াটেদের জন্যও সুখবর। ভাড়া বৃদ্ধির হার কমায় জীবনযাত্রার খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তবে ভাড়াটে অধিকার বিলের ফলাফল বাড়িওয়ালাদের বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। বাংলাদেশী প্রবাসীদের এই পরিবর্তনগুলো সাবধানে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। বাজারের এই অবস্থা সাশ্রয়ী বাড়ি কেনা বা ভাড়ার জন্য উপযুক্ত সময় হতে পারে।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















