সাইফ হাসান: ফ্রান্স সরকার সমুদ্রে আশ্রয়প্রার্থীদের বহনকারী ছোট নৌকা আটকানোর পরিকল্পনা করছে বলে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস জানিয়েছে। এই নীতি জলপথ ও সমুদ্র সৈকতের কাছাকাছি নৌকা আটকানোর লক্ষ্যে করা হয়েছে। এনজিওগুলো সতর্ক করেছে, এটি জীবনের ঝুঁকি বাড়াবে। ২০২৫ সালে রেকর্ড ১৪,৮১২ জন ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছে।
যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের একটি সূত্র জানায়, ফ্রান্সের কর্মকর্তারা এই সপ্তাহে সমুদ্র সৈকত ও অভ্যন্তরীণ জলপথে ‘ট্যাক্সি নৌকা’ আটকানোর পরিকল্পনা তৈরিতে সম্মত হয়েছে। এই নৌকাগুলো আশ্রয়প্রার্থীদের ফ্রান্সের সৈকত থেকে তুলে নিয়ে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেয়। বর্তমান নির্দেশিকা ফ্রান্সের পুলিশকে সমুদ্রে নৌকা আটকাতে বাধা দেয়, যদি না যাত্রীরা বিপদে পড়ে। তবে, তারা সৈকতে নৌকা ছিদ্র করে প্রস্থান ঠেকাতে পারে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রিটালো ফেব্রুয়ারিতে বলেন, “আমরা নিয়ম পরিবর্তন করে ৩০০ মিটার পর্যন্ত সমুদ্রে নৌকায় উঠতে চাই।” ফরাসি সংবাদপত্র লে ফিগারো জানায়, ‘ফিট ইন দ্য ওয়াটার’ নির্দেশিকা তৈরির কাজ চলছে, তবে স্থানীয় পুলিশ এর বিরোধিতা করেছে। হোম সেক্রেটারি ইভেট কুপার বলেন, তিনি চান ফ্রান্সের সীমান্ত পুলিশ শুধু সৈকতে নয়, নদী ও জলপথ থেকে আসা নৌকাগুলোও আটকাক। ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে তাপপ্রবাহের কারণে আরও বেশি মানুষ এই বিপজ্জনক পথে যাত্রা করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
২০২৫ সালের ৩১ মে শনিবার একদিনে ১,১৯৫ জন ১৯টি ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে পৌঁছায়, যা এ বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড। হোম অফিস জানায়, ফ্রান্সের কর্মকর্তারা সেদিন প্রায় ৫০০ জনকে নৌকায় উঠতে বাধা দিয়েছে, যদিও প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা ২০০ জনেরও কমকে আটকায়। হোম অফিসের বিশ্লেষণে বলা হয়, অনুকূল আবহাওয়া এবং নৌকায় অতিরিক্ত মানুষ বহন এই বৃদ্ধির কারণ। এ বছরের প্রথম চার মাসে ‘শান্ত’ দিন দ্বিগুণ হয়েছে, এবং ৪৭% নৌকায় ৬০ বা তার বেশি যাত্রী ছিল।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরি এই বিশ্লেষণকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছে, দীর্ঘমেয়াদী বৃদ্ধিতে আবহাওয়া প্রধান কারণ নয়। ২০২১ সালে তৎকালীন হোম সেক্রেটারি প্রীতি প্যাটেল সমুদ্রে নৌকা আটকানোর পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু ফ্রান্স তা সমুদ্র আইনের পরিপন্থী বলে প্রত্যাখ্যান করে। কেয়ার৪ক্যালাইসের প্রধান নির্বাহী স্টিভ স্মিথ বলেন, “এই পরিকল্পনা আরও প্রাণহানির কারণ হবে। গত বছর রেকর্ড সংখ্যক শরণার্থী আমাদের সীমান্তে প্রাণ হারিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এই ধরনের আটকানো জীবনের ঝুঁকি বাড়ায় এবং সম্ভবত অবৈধ।”
কুপার নিরাপদ দেশ থেকে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর জন্য নতুন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা করছেন। এই পরিবর্তন রাজনৈতিক চাপের মধ্যে এসেছে, কারণ লেবার পার্টি নাইজেল ফারাজের রিফর্ম ইউকে’র ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এনজিওগুলো নিরাপদ আশ্রয় পথ তৈরির দাবি জানিয়েছে, যাতে এই বিপজ্জনক যাত্রা কমে।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian














