ইংল্যান্ডে সেকেন্ডারি স্কুলে যাওয়ার পর ২৫% শিক্ষার্থী বিমুখ!

51

সাইফ হাসান: ইংল্যান্ডে প্রতি চারজন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন সেকেন্ডারি স্কুলে যাওয়ার পর শিক্ষার প্রতি বিমুখ হয়ে পড়ছে। একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ১১ বছর বয়সে প্রাইমারি থেকে সেকেন্ডারিতে যাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের উপভোগ, বিশ্বাস ও নিরাপত্তার অনুভূতি তীব্রভাবে কমে যায়। মেয়েরা বেশি অসুরক্ষিত ও উদ্বিগ্ন বোধ করে। এই বিমুখতা অনুপস্থিতি বাড়ায় এবং ফলাফলের উপর প্রভাব ফেলে।

ইমপ্যাক্টএড গ্রুপের নেতৃত্বে রিসার্চ কমিশন অন এনগেজমেন্ট অ্যান্ড লিড ইন্ডিকেটরস (আরসিইএলআই) নামে এই গবেষণায় ১ লাখ শিক্ষার্থীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে দেখা গেছে, প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপভোগের স্কোর ৬.০ থেকে সেকেন্ডারির সপ্তম শ্রেণিতে ৩.৮-এ নেমে আসে এবং অষ্টম শ্রেণিতে আরও কমে ৩.২ হয়। মেয়েদের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি সপ্তম শ্রেণির ৭.২ থেকে নবম শ্রেণিতে ৫.৯-এ নামে, যেখানে ছেলেদের ক্ষেত্রে এটি ৭.৪ থেকে ৬.৬।

গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষার্থী বিনামূল্যে স্কুলের খাবার পায়, তাদের উপভোগ, বিশ্বাস ও সংযুক্তির অনুভূতি কম। এই বৈষম্য সেকেন্ডারি স্কুলে আরও বাড়ে। শীর্ষ ২৫% নিবেদিত শিক্ষার্থীদের তুলনায় নিম্ন ২৫% শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১০ শতাংশ বেশি অনুপস্থিতির হার দেখা গেছে। প্রাইমারি শিক্ষার্থীরা কঠোর পরিশ্রমে সাফল্যের সম্ভাবনায় বেশি বিশ্বাস করে (৮.৪ স্কোর), যেখানে সেকেন্ডারি শিক্ষার্থীদের স্কোর ৬.৮।

কমিশনের চেয়ার সু জন বলেন, “শিক্ষার্থীদের বিমুখতার সময় চিহ্নিত করা জরুরি, যাতে আমরা হস্তক্ষেপ করে অনুপস্থিতি ও খারাপ ফলাফল রোধ করতে পারি। এই গবেষণা স্কুল ও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের নিবেদনের বিস্তারিত তথ্য দেয়।” এএসসিএল-এর বিশেষ শিক্ষা ও অন্তর্ভুক্তি বিশেষজ্ঞ মার্গারেট মুলহল্যান্ড বলেন, “প্রাইমারি থেকে সেকেন্ডারিতে রূপান্তর একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এটি উদ্বেগ ও আচরণগত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, যা শিক্ষার্থীর কল্যাণ ও ফলাফলের জন্য ক্ষতিকর।”

সিএসটি-এর প্রধান নির্বাহী লিওরা ক্রুডাস বলেন, “স্কুলের বাইরের অনেক কারণ এই বিমুখতার জন্য দায়ী হতে পারে। আমাদের বুঝতে হবে কোন কারণগুলো এই সমস্যা সৃষ্টি করছে এবং কীভাবে শিক্ষার্থীদের পুনরায় স্কুলের সঙ্গে যুক্ত করা যায়।” গবেষণায় বলা হয়েছে, এই বিমুখতা শুধু বয়সের কারণে নয়, ইংল্যান্ডের প্রেক্ষাপটে কিছু অস্বাভাবিক ঘটছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian