ব্রিটিশ নাগরিকের টুইটের জন্য সৌদিতে দীর্ঘ কারাদণ্ডের হুমকি!

49

সাইফ হাসান: একটি টুইটের জন্য সৌদি আরবে এক ব্রিটিশ নাগরিকের বিরুদ্ধে দীর্ঘ কারাদণ্ডের হুমকি ঝুলছে। রিয়াদের একটি আদালতে সোমবার এই মামলার শুনানি হবে। তবে, মামলার বিস্তারিত এখনো অস্পষ্ট, এমনকি ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বিচার প্রক্রিয়ায় প্রবেশাধিকার পায়নি। এ ঘটনা সৌদি আরবে সামাজিক মাধ্যমে সেন্সরশিপ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

আহমেদ আল-দৌশ নামের এই ব্রিটিশ নাগরিক ম্যানচেস্টারের বাসিন্দা এবং চার সন্তানের জনক। পেশায় তনি ব্যাংক অব আমেরিকার সাবেক ব্যবসায়িক বিশ্লেষক। গত ৩১ আগস্ট রিয়াদের খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু বিমানবন্দরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার পরিবার যুক্তরাজ্যে ফিরে গেলেও তিনি সৌদি আরবে আটক রয়েছেন।

আল-দৌশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সুদানের যুদ্ধ নিয়ে একটি টুইট করেছিলেন, যা পরে মুছে ফেলা হয়। এছাড়া একজন সৌদি ভিন্নমতাবলম্বীর ছেলের সঙ্গে তার বন্ধুত্বের কারণেও তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে তার পরিবার দাবি করেছে, এই বন্ধুত্বে কোনো রাজনৈতি আলোচনা ছিল না।

আল-দৌশের ব্রিটিশ আইনজীবী হেইডি ডিজকস্টাল বলেন, “আন্তর্জাতিক আইনে একজন আটক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কারণ ও অভিযোগ সম্পর্কে দ্রুত অবহিত করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো স্পষ্ট নয় যে টুইটটি তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি কিনা। এটি ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।”

আল-দৌশের স্ত্রী আমাহের নূর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তিনি কারাগার থেকে পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না এবং কারাগারের পরিস্থিতি সম্পর্কেও কিছু জানাতে পারছেন না

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি শনিবার সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তবে এই কথোপকথনে আল-দৌশের মামলা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা, তা জানা যায়নি।

সৌদি আরবে সামাজিক মাধ্যমে কঠোর নজরদারি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠন রিপ্রিভ এই মামলায় আল-দৌশের পক্ষে কাজ করছে।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা অন্য দেশের আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তবে তারা রিয়াদে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আল-ৌশের আটকের বিষয়ে ক্রমাগত উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian