বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে বড় ধাক্কা! ব্রিটিশ সরকারের বাজেট কাটছাঁটের নির্দেশ

51

সাইফ হাসান: লন্ডনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র সচিব ডেভিড ল্যামি বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের বাজেটে বড় ধরনের কাটছাঁটের পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারের সহায়তা বাজেট কমানোর সিদ্ধান্তের জেরে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই কাটছাঁটের ফলে যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক প্রভাব এবং বিশ্বব্যাপী মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ব্রিটিশ সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তর বিবিসি কর্তৃপক্ষকে বার্িক ৭০ মিলিয়ন পাউন্ড কম বাজেটের পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। এই পরিমাণ বিবিসির চাহিদার তুলনায় অনেক কম এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির হার ৪.৩% এর তুলনায়ও নগণ্য। বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস বর্তমানে বিশ্বের ৩২০ মিলিয়ন শ্রোতার কাছে পৌঁছায় এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত।

লেবার পার্টির সংসদ সদস্য এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ার এমিলি থর্নবেরি বলেছেন, “এই সময়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো এক ধরনের যুদ্ধের মতো। বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস আমাদের মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে এবং ত্যের পক্ষে লড়াই করে। এখন এই সেবা কমানোর কথা ভাবা উচিত নয়, বরং এটি আরও বাড়ানো দরকার।” তিনি আরও বলেন, “যখন বিবিসি কোনো অঞ্চল থেকে সেবা বন্ধ করে, তখনই রাশিয়া ও চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সেই জায়গা দখল করে নেয়।”

সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, “আমরা বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের মূল্য দিই এবং এটি যেন নিরপেক্ষ ও সঠিক সংবাদ পরিবেশন চালিয়ে যেতে পারে, সেজন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তবে, সূত্র জানায়, সরকার দুটি পরিস্থিতির কথা বলেছে—একটি হলো বাজেট স্থির রাখা, আরেকটি হলো ২% কমানো। এর ফলে সরকারি তহবিল ২০০ মিলয়ন পাউন্ডের পরিবর্তে ১৩০ থেকে ১৪০ মিলিয়ন পাউন্ডে নেমে আসতে পারে। এছাড়া, আগামী বছর ৬ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয়ের জন্য ইতিমধ্যে ১৩০ জন কর্মীর চাকরি কাটা হচ্ছে।

বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভি বলেছেন, “এই সেবার জন্য সরকারের উচিত পুরো ৪০০ মিলিয়ন পাউন্ডের তহবিল বহন করা।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “সরকারি সম্প্রচারে এখন সংকটের পরিস্থিতি।” এদিকে, বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের পরিচালক জনাথন মুনরো বলেছেন, “যখন আমরা একটি রেডিও স্টেশন বন্ধ করি, তখন অন্য দেশের রাষ্ট্রীয় মাধ্যম সেই বাজারে প্রোপাগান্ডা ছড়ায়। এর পরিণতি খুবই ুরুতর।”

এই কাটছাঁটের ফলে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু যুক্তরাজ্যের নরম ক্ষমতার ক্ষতি করবে না, বরং বিশ্বব্যাপী সত্য তথ্যের প্রবাহেও বাধা সৃষ্টি করবে।

এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian