প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৬০, অস্ট্রেলিয়া ৩ উইকেটে ১৮

813

খেলাধুলা ডেস্ক: ব্যাট হাতে সংগ্রহটা খুব বেশি নয়। প্রতিপক্ষকে খুব একটা সুযোগ দেওয়া যাবে না। এটা ভেবেই শুরুতে স্পিনার দিয়ে আক্রমণ করার চিন্তা করেন মুশফিকুর রহিম। প্রথম থেকেই মিরাজের বিপক্ষে সাবলীল ছিলেন না ওয়ার্নার ও ম্যাট রেনশ। ষষ্ঠ ওভারের দ্বিতীয় বলেই ডেভিড ওয়ার্নারকে ফিরিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আগের বলেই অবশ্য আম্পায়ার আলিম দার আউট দিয়েছিলেন ওয়ার্নারকে। সেবার রিভিউ নিয়ে বাঁচলেও পরের বলে আর শেষরক্ষা হয়নি এই ব্যাটসম্যানের।

সপ্তম ওভারে সাকিব আল হাসানের বলে রান নিতে গিয়ে রান আউট হন উসমান খাজা। দিনের খেলা শেষ হতে খুব বেশি সময় নেই, এটা ভেবেই নাথান লায়নকে নাইটওয়াচম্যান হিসেবে পাঠানো হয়। সেই ওভারেই লায়নকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন সাকিব। অস্ট্রেলিয়ার রান তখন মাত্র ১৪। শেষ পর্যন্ত প্রথম দিনের খেলা শেষে তিন উইকেটে ১৮ রান করেছে সফরকারীরা।

এর আগে প্রথম ইনিংসে ২৬০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারিয়ে ফেলে টাইগার শিবির। প্যাট কামিন্সের করা দিনের দ্বিতীয় ওভারের পঞ্চম বলে পিটার হ্যান্ডসকম্বের হাতে ধরা পড়েন সৌম্য সরকার। ওভারের তৃতীয় বলেই ফিরতে পারতেন সৌম্য। কামিন্সের করা খাটো লেন্থের বলটা সৌম্যর ব্যাট ছুঁয়ে প্রথম স্লিপের ওপর দিয়ে চলে যায়। তবে পঞ্চম বলে আর রক্ষা পাননি এই ওপেনার। গুড লেন্থে পড়া কামিন্সের বলটা সৌম্যর ব্যাটে লেগে হ্যান্ডসকম্বের হাতে জমা হয়।

কামিন্সের ফিরতি ওভারে ফিরে যান ইমরুল কায়েস। অফস্টাম্পের বাইরে পড়া বলটা ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। তবে নিচু হয়ে আসা বলটা ইমরুলের ব্যাট লেগে ম্যাথু ওয়েডের বিশ্বস্ত গ্লাভসে জমা হয়। এর পরের বলেই ফিরে যান সাব্বির রহমান। কামিন্সের বলটা সাব্বিরের ব্যাট লেগে আবার ওয়েডের গ্লাভস খুঁজে নেয়। রিভিউ নিয়েছিলেন সাব্বির। তবে শেষরক্ষা হয়নি। এর পর থেকেই প্রতিরোধ শুরু করেন তামিম-সাকিব।

চতুর্থ উইকেটে জুটিতে ১৫৫ রান যোগ করেন তাঁরা। তবে শেষ পর্যন্ত ধৈর্যটা ধরে রাখতে পারেননি তামিম ও সাকিব। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের আপাতনিরীহ একটা বলে উইকেট বিলিয়ে আসেন টাইগার ওপেনার। ৭১ রান করেন তিনি। তামিম ফেরার খানিক বাদে সাকিবও আউট হয়ে যান। ৮৪ রান করেন সাকিব।

বেশিক্ষণ টেকেননি অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও। অ্যাগারের বলে লেগ বিফোর হন তিনি। এরপর ভালোই খেলছিলেন নাসির হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে দলীয় ২৪০ রানে আম্পায়ার আলিম দারের ভুল আউটের শিকার হন মিরাজ। ১৮ রান করেন তিনি। মিরাজ ফেরার খানিকবাদে ফিরে যান নাসির হোসেনও। ৬১ বলে ২৩ রান করেন দুই বছর পর টেস্ট দলে ফেরা এই ব্যাটসম্যান। এর পর তাইজুল ও শফিউলকে ফেরাতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি অসি বোলারদের। শেষ পর্যন্ত ২৬০ রান করে বাংলাদেশ।