‘বালাগঞ্জ এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের ৭৬ লাখ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা সংবাদের প্রতিবাদে লন্ডনে সংবাদ সম্মেলন

1001

ওয়ানবাংলানিউজ: ‘বালাগঞ্জ এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের ৭৬ লাখ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা সংবাদের প্রতিবাদে লন্ডনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। গত ১৭ই মার্চ লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানানো হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি রবিন পাল, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মীরুসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে যা বলা হয় তা হুবহু তা নিচে প্রকাশ করা হলো:
আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, প্রবাসী বালাগঞ্জ ওসমানীনগর এডুকেশন ট্রাস্ট যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সবচেয়ে প্রাচীন এবং বৃহত একটি এডুকেশন ট্রাস্ট। বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর অঞ্চলের শিক্ষার বিস্তারে যুগ যুগ ধরে সাফল্যের সাথে এই সংগঠনটি দায়িত্ব পালন করে আসছে।
প্রবাসী বালাগঞ্জ ওসমানীনগর এডুকেশন ট্রাস্টের কার্যক্রমকে আরো সফল ও নির্বিঘœভাবে পরিচালনার জন্য দীর্ঘদিন থেকেই বাংলাদেশে একটি কার্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন অনুভব করছিলেন সংগঠনের সম্মানিত ট্রাস্টিবৃন্দ। গণপাঠাগার, কম্পিউটার ল্যাব এবং কমিউনিটি হলের সুবিধাসহ একটি ভবন নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী জনাব এমএ মান্নান এক কোটি টাকা বরাদ্দের আশ্বাসও দিয়েছেন।
এরই প্রেক্ষিতে গত বছরের ২১ জুলাই লন্ডনে বিপুল সংখ্যক ট্রাস্টির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ট্রাস্টের একটি কার্যালয় স্থাপনের জন্য জমি ক্রয়ের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। পরবর্তীতে বিগত ১০ ফেব্রুয়ারি তারিখে অনুষ্ঠিত দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভায় পূর্বের সভার (২১ জুলাই ২০১৯) কার্যবিবরণী সত্য দলিল হিসাবে গৃহিত হলে উপস্থিত ট্রাস্টিবৃন্দের মধ্য থেকে তিনটি জমি ক্রয়ের প্রস্তাব আসে এবং আমরা (ট্রাস্টের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ) বৃত্তি বিতরণ ২০২০ অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে বাংলাদেশ অবস্থানকালে প্রস্তাবিত তিনটি জায়গাসহ আরো কয়েকটি জায়গা পরিদর্শন করি। উপযুক্ততা এবং সার্বিক দিক বিবেচনায় আমরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী তাজপুর কদমতলা সংলগ্ন একটি জায়গা কেনার আগ্রহ প্রকাশ করি। ফোনালাপের মাধ্যমে আমাদেরই সংগঠনের দুইজন সম্মানিত ট্রাস্টি বাজারমূল্যের চাইতে তুলনামূলক কম দামে ট্রাস্টের জন্য নিজেদের পারিবারিক মালিকাধীন উক্ত ভূমি বিক্রয়ে সম্মত হন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রতি শতক জায়গার মূল্য সাব্যস্ত হয় আড়াই লাখ টাকা। রেজিস্ট্রি খরচসহ ২৫ দশমিক ২০ শতাংশ জমির সর্বমোট মূল্য দাঁড়ায় ৬৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ভূমি বিক্রয় ও রেজিস্ট্রির জন্য এই পরিবারের মহিলা ও শিশুসহ ৬জন সদস্য ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে বাংলাদেশ সফরে যান।
সুধী সাংবাদিকবৃন্দ,
আপনাদের অবগতির জন্য জানাতে চাই যে, প্রবাসী বালাগঞ্জ ওসমানীনগর এডুকেশন ট্রাস্টের ফান্ডে ১২ কোটি টাকা জমা রয়েছে। সমুদয় অর্থ সংগঠনের সাংবিধানিক কাঠামোর মাধ্যমে সুরক্ষিত এবং অর্থ আয়-ব্যয়ের প্রতিটি হিসাব স্বচ্ছ ও সুনির্দিষ্ট। আমরা নির্বাচিত কর্মকর্তাগণ সংগঠনের সকল ট্রাস্টির নিকট আর্থিক লেনদেনের হিসাব দিতে দায়বদ্ধ। ট্রাস্টের মূলধন ব্যাংকে এফডিআর করে রাখা। এই অর্থ উত্তোলন করে জায়গা কেনার কোনোরূপ সুযোগ নেই এবং আমরা সে চেষ্টাও করি নাই।
অথচ দেশে ফিরে জমি ক্রয়ের জন্য ট্রাস্টের একাউন্টের অথোরাইজড সিগনেটরি যথাক্রমে সম্মানিত সভাপতি, সেক্রেটারি ও ট্রেজারার ফান্ডের লভ্যাংশ থেকে জায়গা কেনার অর্থ ট্রান্সফার করতে গেলে ট্রাস্ট ব্যাংক গোয়ালাবাজার শাখা থেকে জানানো হয় যে, সংগঠনের কতিপয় ট্রাস্টি একটি ই-মেলের মাধ্যমে একাউন্ট থেকে অর্থ উত্তোলনে ক্ষেত্রে আপত্তি জানিয়েছেন। মূলত ট্রাস্টের কার্যালয় স্থাপনের মহতি উদ্যোগকে বানচাল করার লক্ষ্যেই তারা ব্যাংকে এই ইমেল প্রেরণ করেন। এক্ষেত্রে ট্রাস্ট ব্যাংক গোয়ালাবাজার শাখার ব্যবস্থাপকও রহস্যময় আচরণ করেন এবং আমাদের অগোচরে একাউন্টের তথ্য পাচার করেন যা আইনানুগ নয়।
যাই হোক, কতিপয় ট্রাস্টিদের ইমেলের প্রেক্ষিতে আমরা ট্রাস্ট ফান্ড থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারিনি। এ কারণে জমি ক্রয় করাও সম্ভবপর হয়নি। কিন্তু এখানেই ষড়যন্ত্রকারীদের হীন প্রচেষ্টা থেমে থাকেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানান বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়। আমরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করি, সুদূর আমেরিকার মিশিগান শহর থেকে প্রকাশিত একটি সংবাদপত্রে অবৈধভাবে ‘বালাগঞ্জ এডুকেশন ট্রাস্টের ৭৬ লাখ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা’ শীর্ষক একটি সংবাদ পরিবেশন করা হয়। পরবর্তীতে সম্পূর্ণ অসত্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বানোয়াট তথ্য সন্নিবেশিত এরকম সংবাদ আরো কয়েকটি নামসর্বস্ব অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এমন মিথ্যা সংবাদকে শেয়ার করা হয়। যার মাধ্যমে আমাদের স্বনামধন্য এই সংগঠনের সুনাম যেমন ক্ষুন্ন করা হয়েছে তেমনি ট্রাস্টের হাজারো ট্রাস্টি দ্বারা নির্বাচিত কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের মানহানি করা হয়েছে। এমন মিথ্যা সংবাদ আমাদের সামাজিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, আমাদেরকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে। আমরা একটি পত্রিকায় এহেন মিথ্যা সংবাদের লিখিত প্রতিবাদ পাঠালে সম্পাদক মহোদয় তা প্রকাশ করেন, কিন্তু মিথ্যা সংবাদের জন্য কোনোরূপ দুঃখ প্রকাশ করেননি। অন্যদিকে শুধুমাত্র জমি রেজিস্ট্রি করার জন্য বিক্রেতাগণ বাংলাদেশ সফওে গিয়েছিলেন। এ ঘঁনায় তারাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ,
যে বা যারা মিথ্যা তথ্য পরিবেশন কওে সংবাদ প্রকাশ করেছেন, ট্রাস্টেও কার্যালয় স্থাপনের মহতি উদ্যোগকে বানচাল করতে ব্যাংক লেনদেনে এষতিয়ার বর্হিভূতভাবে হস্তক্ষেপ করেছেন বালাগঞ্জ ওসমানীনগর এুিকেশন ট্রাস্টেও নির্বাচিত কমিটিসহ ট্রাস্টেও ট্রাস্টিবৃন্দ এমন আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। আমরা আপনাদেও মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করতে চাই যে, কারো পক্ষ্ইে ঐতিহ্যবাহী এই ট্রাস্টেও এক টাকাও আত্মসাতের সুযোগ নেই। অথচ মিথ্যা সংবাদে আমাদেও উপর সেই অপবাদ দেওয়া হয়েছে এবং বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এভাবে ষড়যন্ত্র কওে প্রবাসী বালাগঞ্জ ওসমানীনগর এুিকেশন ট্রাস্টেও অগ্রযাত্রাকে কোনোভাবেই রুখে দেওয়া যাবে না। সব ধরণের ষড়যন্ত্রকে আমরা অবশ্যই সাংগঠনিক ও সামাজিকভাবে বয়কট এবং প্রতিহত করবো। অচিরেই সংগঠনের সকল ট্রাস্টিদেও নিয়ে সভা আয়োজনের মাধ্যমে আমরা এহেন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনানুগ পদক্ষেপ গস্খহণ করবো।
পরিশেষে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকার জন্য আপনাদেও আবারো ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। বালাগঞ্জ ওসমানীনগর এুিকেশন ট্রাস্টেও সার্বিক অগ্রযাত্রায় অুীতের মতোও ভবিষ্যতে আমরা আপনাদের সহযোগিতা ও সুচিন্তিত পরামর্শ প্রত্যাশা করছি।