৭০ সন্ত্রাসীর জেলমুক্তি পর্যালোচনা করছে বৃটিশ সরকার

1139

নিউজ ডেস্ক: লন্ডন ব্রিজে শুক্রবারের সন্ত্রাসী হামলার পর বৃটেনজুড়ে তোলপাড় চলছে। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সন্ত্রাসী উসমান খান (২৮) শুক্রবার ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে দু’জনকে। আহত করে তিন জনকে। পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে তাকে। কিন্তু এর পর থেকেই অন্য এক বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে বৃটেনে। সন্ত্রাসী উসমান খান ২০১২ সালে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে বোমা হামলা ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে জেলে ছিল। কিন্তু শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পায় সে। এরপর ওই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

এর ফলে অভিযুক্ত সন্ত্রাসীরা কিভাবে জেল থেকে মুক্তি পাচ্ছে তা নিয়ে সরকার পর্যালোচনা করবে। এমন ৭০ জন অভিযুক্ত সন্ত্রাসী জেল থেকে মুক্তি পেয়েছে। তাদের বিষয় সরকার পর্যালোচনা করবে। এমন জরুরি পর্যালোচনা শুরু করেছে বৃটিশ আইন মন্ত্রণালয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, আগেভাগেই জেলমুক্তি থামানো গেলে এই হত্যাকান্ড বন্ধ করা যেতো। তবে বিরোধী লেবার দলনেতা কেরেমি করবিন এ জন্য বাজেট কর্তনকে দায়ী করেছেন। বলেছেন, বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ হারিয়েছে বাজেট কর্তন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

২০১২ সালে স্টক এক্সচেঞ্জে বোমা হামলা পরিকল্পনার জন্য উসমান খানকে অভিযুক্ত করে জেল দেয়া হয়। জননিরাপত্তার জন্য তাকে অনির্ধারিত সময়ের জন্য জেল দেয়া হয়। তবে এই জেলের মেয়াদ সর্বনিম্ন আট বছর। এই শাস্তির ফলে তাকে সর্বনিম্ন সময় পর্যন্ত জেলে থাকার কথা ছিল। কিন্তু ২০১৩ সালে কোর্ট অব আপিল ওই শাস্তি বাতিল করে দেয়। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে শর্তসাপেক্ষে তাকে মুক্তি দেয়া হয় জেল থেকে। মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার নেইল বসু বলেছেন, এসব শর্তের মধ্যে বেশ কিছু কড়া কড়া শর্ত ছিল। ‘আমার জানামতে, সে এসব শর্ত মেনে চলছিল’। এর অধীনে সে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য ছিল। যেসব মানুষ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে তাদের পুনর্বাসনের জন্য এসব কর্মসুচি।

উসমান খান জেল থেকে বেরিয়ে বসবাস করতো স্ট্যাফোর্ডে। পরতো একটি জিপিএস পুলিশ ট্যাগ। বন্দিদের পুনর্বাসন বিষয়ক লার্নিং টুগেটার আয়োজিত একটি কনফারেন্সে যোগ দিয়েছিল সে। এ সম্মেলন চলছিল ফিশমঙ্গার হলে। এর ভিতর থেকেই সে হামলা শুরু করে। এই হামলা চালিয়ে সে লন্ডন ব্রিজ পর্যন্ত অগ্রসর হয়। ওদিকে সে শুধু উসমান নামে চিহ্নিত ছিল। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এক নৈশভোজে তহবিল সংগ্রহ সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে সে বক্তব্যও দিয়েছে বলে বলা হয়। তাকে একটি নিরাপদ ল্যাপটপও দেয়া হয়েছিল, শর্তের অধীনে। এটি ব্যবহার করে সে লেখালেখি অব্যাহত রাখতে পারতো। এছাড়া জেলে থাকতে সে পড়াশোনা শুরু করেছিল। সেই পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে পারতো।

আলাদা একটি ব্রোশিউরে সে একটি কবিতাও দিয়েছে। এতে সে ল্যাপটপের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। সে লিখেছে, পুরো লার্নিং টিমকে যথেষ্ট ধন্যবাদ জানিয়ে শেষ করতে পারবো না। ধন্যবাদ দিয়ে শেষ করতে পারবো না তাদেরকে, যারা এই চমৎকার সম্প্রদায়ের প্রতি সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, শুক্রবার উসমান হামলা চালিয়ে যে দু’জনকে হত্যা করেছে তার মধ্যে রয়েছেন লার্নিং টুগেটারের কোর্স সমন্বয়ক জ্যাক মেরিট। এ হামলায় নিহত হয়েছেন একজন নারীও।