নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে ব্রেক্সিটের স্মারক মুদ্রা

4590

ওয়ানবাংলানিউজ ডেস্ক: ব্রেক্সিটের পূর্ব নির্ধারিত তারিখ ৩১ অক্টোবরকে সামনে রেখে বানানো হয়েছিল একটি স্মারক মুদ্রা। তবে ব্রেক্সিট বিলম্বিত হওয়ার সিদ্ধান্তের পর সেই মুদ্রা গলিয়ে আবার তৈরি করার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাজ্য। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাওয়ার নতুন তারিখ ৩১ জানুয়ারি ২০২০ কে সামনে রেখে এখন নতুন করে ওই মুদ্রা বানাতে হচ্ছে।

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ৩১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) যুক্তরাজ্যের ইউরোপ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার তারিখ নির্ধারিত ছিল। সেই সময়সীমার ২ দিন আগে সোমবার ইইউ নেতারা জানান, ৩ মাস বাড়িয়ে ব্রেক্সিটের সময়সীমা ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ইইউ-এর প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেওয়ার পর দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হওয়াকে স্মরণীয় করে রাখতে এর নতুন তারিখ অনুযায়ী আমরা মুদ্রা বের করার পরিকল্পনা করছি।’

৩১ অক্টোবরের আগেও এক দফা ব্রেক্সিট বিলম্বিত হয়েছিল। কথা ছিল ২৯ মার্চের মধ্যে ইইউ ত্যাগ করবে যুক্তরাজ্য। সেবারও স্মারক মুদ্রা তৈরি হয়েছিল। সেখানে লেখা ছিলো ‘পিস,প্রসপারিটি অ্যান্ড ফ্রেন্ডশিপ’ অর্থাৎ ‘শান্তি, উন্নতি ও বন্ধুত্ব’। একই সেই উদ্ধৃতি দিয়ে নতুন করে মুদ্রাটি তৈরি করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় প্রেসিডেন্ট থমাস জেফারসন দায়িত্ব নিয়ে বলেছিলেন ‘শান্তি, বাণিজ্য ও সৎ বন্ধুত্ব’। বলা হচ্ছে মুদ্রায় লেখা ওই কথাটি জেফারসনের বক্তব্য থেকেই নেওয়া।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই মুদ্রা তৈরিতে তারা জনগণের ট্যাক্সের টাকা ব্যবহার করেনি। রাজকীয় কোষাগার থেকেই এর অর্থের যোগান দেওয়া হয়েছে। ব্রিটেনের রাজপরিবার প্রায়ই এমন স্মারক মুদ্রা তৈরি করে। এর আগে ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে স্মারক মুদ্রা তৈরি করেছিলো তারা।

রানি এলিজাবেথের পরিকল্পনা অনুযায়ী তিন ধরনের ৫০ পয়সার ব্রেক্সিট কয়েন অবমুক্ত করার কথা ছিলো। একটি স্বর্ণের, একটি রুপার এবং একটি তামা ও নিকেলের মিশনের। এই মুদ্রার ডিজাইনে ছিলো ঐতিহ্যবাহী রুপ। একপাশে রানির মুখ ও অন্যপাশে তারিখ ও বিশেষ বার্তা। ৮ অক্টোবর ব্রিটিশ রানির উপদেষ্টা পরিষদ এই নকশার অনুমোদন দেন।

ব্রেক্সিট ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে চলতি বছরের মে মাসে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন থেরেসা মে। তিনি সরে দাঁড়ানোর পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন কট্টর ব্রেক্সিটপন্থী বরিস জনসন। আগামী ৩১ অক্টোবর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন তিনি। প্রয়োজনে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট বাস্তবায়নেরও ইঙ্গিত দেন জনসন। পরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে ব্রেক্সিট কার্যকরের সময় বাড়াতে আবেদন করে যুক্তরাজ্য।