বৈশাখী ভর্তা পার্টি: আড্ডায় আড্ডায় অর্ধদিন

531

ওয়ানবাংলানিউজ: আসলে আড্ডার মতোই আড্ডা শব্দেরও কোনও বিকল্প নেই। খ্যাতিমান কবি ও সাহিত্যিক বুদ্ধদেব বসু বলেছিলেন, “আড্ডা জিনিসটা সর্বভারতীয়, কিন্তু বাংলাদেশের সজল কোমল মাটিতেই তার পূর্ণবিকাশ। আমাদের ঋতুগুলো যেমন কবিতা জাগায়, তেমনই আড্ডাও জমায়।”
বাঙালীর শিকড়ভূমি বাংলা ভূখন্ডতে কিন্তু এই আড্ডা এখন আর সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন ছড়িয়ে পড়েছে বাঙালিদের দখলে নেয়া বিশ্বের বিভিন্ন অংশে।
শনিবার সত্যবাণীর উদ্যোগে সেই বিকল্পহীন এক আড্ডায়ই স্বপরিবারে মেতে উঠেছিলেন লন্ডনের সংবাদ, সংস্কৃতিকর্মী ও তাদের পরিবার সদস্যরা। সৃস্টিকর্তার দান অপূর্ব সুন্দর রৌদরোজ্জল দিনটির দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত চুটিয়ে আড্ডা দিয়েছেন যান্ত্রিক জীবনের রোবটখ্যাত এই মানুষগুলো। সত্যবাণী কার্যালয় ও প্রধান সম্পাদকের বাসভবনের গার্ডেনে আয়োজিত ‘বৈশাখী ভর্তা পার্টি’ শীর্ষক এই আড্ডার ব্যাতিক্রমী আয়োজন ছিলো ভোজন টেবিলে থরে থরে সাজিয়ে রাখা ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের ভর্তা। ২৫টিরও বেশি ভিন্ন স্বাদের ভর্তা ভর্তি টেবিলটি ছিলো বাঙালীর গ্রামীন খাবারের প্রতিচ্ছবি। সব ভর্তা কিন্তু সত্যবাণী পরিবারের একার তৈরী নয়। অনুষ্ঠানে আগত ‘আড্ডাবাজ’ মহিলারা প্রত্যেকেই নিয়ে এসেছিলেন তাদের পছন্দের ভর্তা ভর্তি ডিসগুলো। বেগুন, আলু, সীম, শুঁটকি, মাছ, ডিম, মাংস, কি নেই এই ভর্তা তালিকায়। কেউ কেউ নিয়ে এসেছিলেন পান্তা ভাতও। রোষ্ট, পোলাও, মাংস, মাছতো ছিলোই। ভর্তা টেবিলকে ঘীরে ‘আড্ডাবাজ’দের মধ্যে ছিলো উচ্ছাস। আড্ডায় ছিলোনা কোন আনুষ্ঠানিকতা, ছিলোনা ‘বক্তৃতাবাজী’। রবীন্দ্র সংগীতের অবিরাম বেজে চলার পাশাপাশি খাবার প্লেট হাতে গার্ডেনে ঘুরে-বসে আড্ডা, গল্প, কৌতুক, সেল্ফি সব মিলিয়ে সত্যবাণীর বৈশাখী আড্ডা হয়ে উঠেছিলো প্রাণজ। মূল ভোড়ি ভোজনের পর ছিলো চা-কফি আড্ডাও।আড্ডার ফাঁকে ফাঁকে সত্যবাণী কার্যালয়ও পরিদর্শন করেন আড্ডা প্রিয়রা।
সত্যবাণীর উপদেষ্টা সম্পাদক আবু মুসা হাসান ও প্রধান সম্পাদক সৈয়দ আনাস পাশা আড্ডায় উপস্থিত হওয়ায় ‘আড্ডাবাজ’দের ধন্যবাদ জানানোর চেষ্টা করলে সবাই বলে উঠেন, ‘কোন আনুষ্ঠানিক ‘বক্তৃতাবাজী’র সুযোগ নেই , আজ শুধুই আড্ডা।’ পুরো সময়টিই আড্ডায় আড্ডায় মাতিয়ে রাখেন, টেলিভিশন উপস্থাপিকা উর্মী মাজহার, সিনিয়র সাংবাদিক শামসুল আলম লিটন, টেলিভিশন সংবাদ পাঠিকা রুপি আমিন ও মি: শাহীন আমিন, সম্মিলিত আবৃত্তি পরিষদের আহবায়ক, টেলিভিশন সংবাদ পাঠিকা মুনিরা পারভীন ও আরিফুর রহমান খোন্দকার, সাপ্তাহিক দেশ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সহ সভাপতি বাংলা পোষ্ট সম্পাদক তারেক চৌধুরী, প্রেস এন্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারী আব্দুল কাইয়ুম, সিনিয়র সাংবাদিক মতিয়ার চৌধুরী, কমিউনিটি নেতা মাহমুদ এ রউফ, উদীচীর সাবেক সভাপতি, শিক্ষক সৈয়দ রকিব ও মিসেস রকিব, রাজনীতিক সৈয়দ এনামুল ইসলাম ও মিসেস এনামুল ইসলাম, সৈয়দ আবুল মনসুর লিলু ও মিসেস বিলকিস মনসুর, সংস্কৃতিকর্মী মিটু আজাদ ও স্মৃতি আজাদ, মানবাধিকার কর্মী পুস্পিতা গুপ্ত, ব্যবসায়ী সৈয়দ আসাদ হক ও মিসেস লুসি হক, সত্যবাণীর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সৈয়দা ফেরদৌসি পাশা কলি, সৈয়দা সাদিয়া চৌধুরী লাকি, সৈয়দা নায়লা বেগম বাবলী, জেবিন সাঈদা ও সৈয়দা নাজহান নাজু প্রমূখ।
প্রাত্যাহিক জীবন সংগ্রামের বাস্তবতায় পড়ন্ত বিকেলে ইচ্ছে না থাকলেও অবশেষে ক্ষান্ত দিতে হয় ‘আড্ডাবাজী’। একে একে বাড়ীর পথ ধরেন সবাই।‘জয়তু আড্ডা’-বিদায় বেলায় এমন প্রার্থনাও শোনা যায় কারো কারো কন্ঠে।