গুলশান হামলা : ‘জঙ্গিরা আল্লাহ আকবর বলে গুলি করে’

325

ঢাকা সংবাদদাতা: রাজধানীর হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার মামলায় গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাহ উদ্দিন মিয়া আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘গুলশান হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে এসআই ফারুখসহ অনেক পুলিশ সদস্যদের দেখতে পাই। সন্ত্রাসীরা একপর্যায়ে আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিয়ে গুলি ও বোমা নিক্ষেপ শুরু করে।’

আজ বুধবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমানের আদালতে এ পুলিশ কর্মকর্তা এ বলে সাক্ষ্য দেন। তবে তাঁর সাক্ষ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।

সাক্ষ্যে গুলশান থানার পরিদর্শক আরো বলেন, ‘পুলিশ আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ৭৯/২০ নম্বর বাড়ির পাশে গ্রেনেড ও গুলিবর্ষণ করতে থাকে সন্ত্রাসীরা। ওই সময় গুলশান থানার ওসিসহ ৩০-৩৫ জন গুরুতর আহত হয়। এরপর আহতদের পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর কিছু সময় পর বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিনের মৃত্যুর খবর শুনতে পাই। ডিপ্লোম্যাটিক ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও দেশি-বিদেশিদের উদ্ধারে অভিযান চালাই।’

এ জবানবন্দির শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ জেরা করে বলেন, আসামিরা ‘আল্লাহ আকবর’ বলে গুলি চালায়নি। ঘটনার সময়ে পুলিশ গুলি করায় ভিতরের সাধারণ মানুষ ভয়ে ‘আল্লাহ আকবর’ বলে চিৎকার করছিল।

পরে আইনজীবী জেরা শেষে বিচারক আগামী ৩ এপ্রিল মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

এদিকে আজ এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ উপলক্ষে কারাগারে থাকা ছয় জঙ্গিকে হাজির করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন- জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে র‌্যাশ, সোহেল মাহফুজ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান ও হাদিসুর রহমান সাগর।

গত বছরের ২৬ নভেম্বর আলোচিত মামলাটির বিচার শুরুর নির্দেশ দেন একই আদালত।

গত বছরের ২৩ জুলাই ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবীর গুলশান হামলা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়। পরে অবশ্য হাসনাত করিমকে অব্যাহতি দেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েস।

এ মামলায় অভিযোগপত্রে ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে আটজন আসামি বিভিন্ন অভিযানে ও পাঁচজন হলি আর্টিজানে অভিযানের সময় নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া জীবিত আটজনের মধ্যে ছয়জন কারাগারে এবং বাকি দুজন পলাতক। পলাতক দুই আসামি হলেন শহীদুল ইসলাম খালেদ ও মামুনুর রশিদ রিপন।

অভিযানে নিহত পাঁচ জঙ্গি হলেন রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল।

এ ছাড়া বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানে নিহত আটজন হলেন—তামীম আহমেদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। হামলার পর রাতেই তারা ২০ জনকে হত্যা করে।

সেদিনই উদ্ধার অভিযানের সময় বন্দুকধারীদের বোমার আঘাতে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। পরের দিন সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে নিহত হয় পাঁচ হামলাকারী। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেকজনের মৃত্যু হয়।

জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এ হামলার দায় স্বীকার করে। সংগঠনটির মুখপাত্র ‘আমাক’ হামলাকারীদের ছবি প্রকাশ করে বলে জানায় জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স’।

অন্যদিকে, এ মামলায় কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানা থেকে আটক রাকিবুল হাসান রিগ্যানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তিনি এ মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।