চকবাজার ট্র্যাজেডি: ডিএনএ টেস্টে ১১ মরদেহ শনাক্ত

325

ঢাকা সংবাদদাতা: রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে ১১ জনের মরদেহ ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড (ডিএনএ) পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বুধবার সকালে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) রুমানা আক্তার বলেন, আমরা আজ ১১ জনের শনাক্তকরণ প্রতিবেদন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করব। বাকি কাজ তারা করবে। এই ১১ জনের পরিচয় পরে সংবাদ সম্মেলন করে প্রকাশ করা হবে।

এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ এলাকায় স্বজন দাবিদারদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডি।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চকবাজারের চুড়িহাট্টা মোড়ে কয়েকটি ভবনে আগুন লাগার পর ১৫ ঘণ্টার চেষ্টায় তা নেভায় ফায়ার সার্ভিস। পরদিন ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে মোট ৭০টি বডি ব্যাগ ঢাকা মেডিকেলের মর্গে পাঠানোর কথা ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

কিন্তু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ ৬৭টি লাশ পাওয়ার কথা সাংবাদিকদের বলেন।

সংখ্যার গড়মিলের বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক তারেক হাসান ভূইয়া তখন বলেন, কয়েকটা ব্যাগে খণ্ড খণ্ড ডেডবডি ছিল। সম্পূর্ণ ডেডবডি হয়ত ৬৭টি হতে পারে। কয়েকটি লাশ এতটাই পুড়েছে যে চেনার উপায় নেই।

পরের দুই দিনে ৪৮ জনের লাশ শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে ঢাকা মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। বাকিদের পরিচয় জানতে ডিএনএ পরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডি পুলিশকে।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ মোহাম্মদ রেজাউল হায়দার ২৫ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ১৯ জনের মৃতদেহ এবং একটি বিচ্ছিন্ন হাতের মালিকের পরিচয় শনাক্তের জন্য ২৩টি পরিবারের ৩৮ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছেন তারা।

তিনি সে সময় বলেছিরেন, শনাক্ত না হওয়া মৃতদেহগুলোর মধ্যে পাঁচটির হাড় এবং বাকিগুলো থেকে টিস্যু ও রক্ত নমুনা হিসেবে তারা সংগ্রহ করেছেন।

হাড় থেকে নেওয়া নমুনা এবং পরিবারের সদস্যদের দেওয়া নমুনা মেলাতে তিন সপ্তাহের বেশি সময় লাগবে। বাকিগুলোর ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১২দিন সময় লাগতে পারে বলে সে সময় ধারণা দেওয়া হয়েছিল।

চুড়িহাট্টা মোড়ের আগুনে দগ্ধদের মধ্যে যারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, তাদের মধ্যে চারজনের মৃত্যু হওয়ার ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ জনে।